নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে চলমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে তার অনুসারীরা ‘আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি শুল্ক ইস্যুতে তার ‘ম্যাজিক’ কার্যত ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। আমেরিকায় প্রতিনিধি পাঠিয়েও এ বিষয়ে তেমন কোনো সুবিধা আদায় করতে পারেননি তিনি।
আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ নীতির আওতায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর সম্ভাব্য কার্যকর শুল্কহার (ইটিআর) দাঁড়াবে প্রায় ৫০ শতাংশ, যা বর্তমানে ১৫ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিচ রেটিংস জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সব বাণিজ্য অংশীদার দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এই উচ্চ শুল্কের কারণে চরম হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব পণ্যে অন্যান্য দেশকে শুল্ক ছাড় দিয়েছে, বাংলাদেশ তেমন কোনো সুবিধা পায়নি। এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার এখন কৌশলগত প্রতিক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টেলিভিশন উপস্থাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক জিল্লুর রহমান বিষয়টিকে ‘গুরুতর অর্থনৈতিক হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি এক ইউটিউব আলোচনায় তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। কারণ ৩৫ শতাংশ নতুন শুল্কসহ মোট কার্যকর শুল্কহার ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাচ্ছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চায় বাংলাদেশ যেন তার ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির পক্ষে অবস্থান নেয়, যা মূলত চীনের প্রভাব মোকাবিলায় গঠিত একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
ফিচ রেটিংসের ‘ইটিআর মনিটর’ অনুযায়ী, এই শুল্কহার বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাণিজ্য অংশীদার হতে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো প্রতিনিধিদল—যার নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা—এই ইস্যুতে কোনো সাফল্য আনতে পারেনি। তাদের সফরের ফলাফল ছিল প্রায় শূন্য। এমনকি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি একটি প্রতিবেদনে দলটির যোগ্যতা ও প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
জিল্লুর রহমান অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ইস্যুতে প্রয়োজনীয় গবেষণা বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই বিদেশ সফরে যান। আলোচনা করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করার মতো সক্ষমতা ও সদিচ্ছা সরকারের মধ্যে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “ভিয়েতনাম ও ভারত ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সফলতা দেখিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। শুধু বিদেশে সফর করলেই হবে না—প্রয়োজন বাস্তব প্রস্তুতি, স্বচ্ছতা ও দেশের স্বার্থে আন্তরিকতা।”
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, তা খোলাখুলিভাবেই জানায়। তাই এসব বিষয়ে ‘নন-ডিসক্লোজার চুক্তি’র আড়ালে আলোচনা গোপন রাখার যুক্তি চলে না। তিনি মনে করেন, সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতেই এসব অজুহাত দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ ইউনূস ও তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি দেশের অর্থনীতির জন্য বড় এক সংকেত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন