নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে যেন নতুন এক বিজ্ঞান আবিষ্কার হয়েছে—যার নাম “প্রেস সচিবীয় সত্য”। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত খসড়া চুক্তি প্রকাশ না করার বিষয়ে ‘ভুলভাবে কথা বলেছেন’ বলে সদয়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মানে, সত্য বলার একচেটিয়া অধিকার এখন তাঁর দখলে।
শফিকুল আলমের ভাষ্যমতে, চুক্তি গোপন রাখা নাকি “কূটনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া”। অর্থাৎ, জনগণ কিছু জানবে না—এটাই নাকি কূটনীতি! তবে চুক্তি শেষ হলে, গোপনীয়তার শর্ত তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হবে।
এই শুল্ক চুক্তি নিয়ে তাঁর নিজেরই আগের বক্তব্য ছিল আরও রঙিন—৩৫% থেকে ২০% শুল্ক কমানো নাকি “বড় কূটনৈতিক সাফল্য”, আর জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে কিছুই হয়নি। অবশ্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ও শীর্ষ সংবাদপত্রের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সামরিক পণ্য ক্রয়, নজরদারি চুক্তি, এবং আমদানি-বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি শর্তের গল্প। কিন্তু সেসবের কথা তো জনগণ জানার দরকার নেই—তাদের জানালে যে “স্বচ্ছতা” বিঘ্নিত হতে পারে!
আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা "পালো" সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত নজরদারি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক পণ্য ক্রয়, জ্বালানি আমদানি ও সরঞ্জাম বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করেছে। দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম, বেসামরিক বিমান ও যন্ত্রাংশ আমদানি বাড়াবে। সেই সঙ্গে গম, তুলা, ভোজ্যতেল ও এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেস সচিবের বক্তব্য শোনার পর মনে হয় যেন তিনি জাতির মনোবিজ্ঞানী—যার মূল কাজ জনগণকে শান্ত রাখা, সত্য না বলা। আর সরকার? তাদের কাজ নাকি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ স্ক্রিপ্ট পড়া।
মজার ব্যাপার হলো, এর আগেও এমন ঘটেছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে, প্রেস সচিব বলেছিলেন ড. ইউনূস ট্রাম্পকে একটি ‘ব্যবসাবান্ধব চিঠি’ পাঠাবেন, যা সব সমস্যার সমাধান করবে।
পরে বিশ্বব্যাপী ৭৫টি দেশের ওপর শুল্ক সাময়িক স্থগিত হলে সেটি ড. ইউনূসের সাফল্য হিসেবে প্রচার হয়। এরপর? শুল্ক সেই আবারও আরোপিত হয়েছে—কিন্তু গল্পের অভাব হয়নি। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—সত্যি বলার লাইসেন্স কি কেবল প্রেস সচিবের কাছেই আছে, নাকি বাকিদের সত্য বলার অনুমতি সরকার গোপনে বাতিল করে দিয়েছে?
মন্তব্য করুন