স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) জামায়াত পন্থী কর্মকর্তা আবু জাফরসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অধিদপ্তরের বিভিন্ন ক্রয় ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, শর্ত পরিবর্তন, দরপত্রে কারসাজি এবং প্রভাব খাটানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয়নি।
সমালোচকদের মতে, অভিযোগ ওঠার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের রক্ষার চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। এতে অধিদপ্তরের ভেতরে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে উঠেছে বলে দাবি তাঁদের। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কিছু মহল রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তুলেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো উভয়ই জনস্বার্থে প্রয়োজন।
বিগত ইউনূস সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, সচিব সাইদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ডা. আবু জাফর এই হরিলুটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন অভিযোগও উঠেছে।
এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
মন্তব্য করুন