নিজস্ব প্রতিবেদক | সিলেট
সিলেটে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় আটক হওয়া অনেক তরুণের বয়স মাত্র ১৮ থেকে ১৯ বছর, আর বেশিরভাগের বয়সই ২৫ বছরের নিচে। যে বয়সে একজন তরুণের স্বপ্ন থাকে পড়াশোনা করা, ক্যারিয়ার গড়া এবং পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, সেই বয়সেই কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে।
এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এত অল্প বয়সে তারা কীভাবে এমন সাহস পায়। কারা তাদের পেছনে শক্তি জোগায় এবং কারা তাদের ব্যবহার করছে নিজেদের স্বার্থে। সমাজের বিভিন্ন মহলে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে অপরাধে জড়িয়ে পড়া তরুণদের পেছনে তথাকথিত রাজনৈতিক অভিভাবকরা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন। এই ধরনের সমর্থন পেয়ে তারা নিজেদের প্রভাবশালী মনে করতে শুরু করে এবং অনেক সময় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সেই প্রভাব প্রদর্শনের চেষ্টা করে।
সিলেটের সাম্প্রতিক কিছু ঘটনাকে ঘিরেও এমন অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, অপহরণকারী চক্রের নেতা হিসেবে পরিচিত ফারদিন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি কয়েস লোদীর অনুসারী। আরও অভিযোগ রয়েছে, সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির তাকে সরাসরি আশ্রয় দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি। অপরাধী যে-ই হোক এবং যত প্রভাবশালী কারও ছত্রছায়াতেই থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, সত্য সামনে আসবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজ যাতে ভুল পথে না গিয়ে শিক্ষা, সততা ও মানবিকতার পথে এগিয়ে যেতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন