কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় চলতি মৌসুমে লবণ চাষিরা বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজারে দামের ধস এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের কারণে অনেক চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন। ফলে এই অঞ্চলের প্রধান জীবিকার অন্যতম উৎস লবণ চাষ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকায় হাজারো পরিবার লবণ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মৌসুমে বাজার পরিস্থিতি তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। উৎপাদনের তুলনায় বাজারমূল্য কমে যাওয়ায় চাষিদের অনেকেই আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছেন।
চাষিদের দাবি, জমির ইজারা, শ্রমিকের মজুরি, পলিথিন, পানি ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে সেই লবণ বিক্রি করতে হচ্ছে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকার নিচে। ফলে লাভের পরিবর্তে অনেক চাষিকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চাষিদের অভিযোগ, বাজারে ব্যবসায়ী ও দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে চাষিরা সরাসরি বাজারে লবণ বিক্রি করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। একই সঙ্গে জমির ইজারামূল্য ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় অনেকের মতে, অতীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার সময় লবণ চাষিরা তুলনামূলকভাবে ন্যায্য মূল্য পেয়েছিলেন এবং এই খাতটি স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্থিতিশীলতা নেই বলে মনে করছেন অনেকেই।
স্থানীয়রা বলছেন, লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে অনেক চাষি এই পেশা থেকে সরে যেতে পারেন। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই লবণ চাষিদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন