নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটের পরদিন প্রকাশিত গেজেটের সঙ্গে নতুন গেজেটের হিসাবে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সংশোধিত হিসাবে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে প্রায় ১১ লাখের বেশি। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে প্রায় ১০ লাখ এবং ‘না’ ভোট কমেছে এক লাখের কিছু বেশি।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংশোধিত গেজেট অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০ এবং ‘না’ ভোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১। দুই মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬ ভোট। বাতিল বাদ দিলে মোট বৈধ ভোট দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১।
আগের গেজেটের তুলনায় ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০ এবং ‘না’ ভোট কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫। বাতিল ভোট বেড়েছে ১২ হাজার ৫৫৯। সব মিলিয়ে মোট প্রদত্ত ভোট কমেছে ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬।
কী বলছে নির্বাচন কমিশন
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগের ফলাফলে করণিক ভুল ছিল এবং কিছু সংখ্যা এদিক-সেদিক হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ রয়েছে, ফলে চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।
প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮ দফা বাস্তবায়নে জনসমর্থন নিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকলেও বাকি ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন।
প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া
ফল সংশোধনের পর ভোটের হিসাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, এমন বড় অঙ্কের পার্থক্য প্রশাসনিক ত্রুটির বিষয়টিকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, এটি কেবল সংখ্যাগত ভুল ছিল, ফলাফলের সার্বিক চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে।
গণভোটের ফল নিয়ে বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিলেও, এখন নজর থাকবে—এই সংশোধনকে ঘিরে আর কোনো ব্যাখ্যা বা পর্যালোচনা আসে কি না।
মন্তব্য করুন