নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণহানি নিয়ে ভয়াবহ গোপনাচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনীর সহায়তায় অনেক মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সূত্র বলছে, এই কর্মকাণ্ড প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রত্যক্ষ নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে।
ঘটনার রাতেও চলে অ্যাম্বুলেন্স, গণমাধ্যমকে বাধা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতে আইএসপিআর জানিয়েছিল উদ্ধার কার্যক্রম রাত ৮টার মধ্যে শেষ হবে। তবে রাত ২টার দিকেও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সেই সময় সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে দূরে রাখা হয় এবং ছবি বা তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, "বিমানটি দুটি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে, যেখানে প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। আমি নিজেই ২৫টি মরদেহ বের করেছি। কিন্তু সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলছিলেন, মাত্র ২ থেকে ৩ জন মারা গেছেন। আমরা যখন সাংবাদিকদের সত্য বলার চেষ্টা করি, তখন আমাদের ধমকানো হয়।"
লাশ গুমের অভিযোগে উত্তাল শিক্ষার্থীরা, ৬ দফা দাবি
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা। ৬ দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। দেওয়া হচ্ছে নানা স্লোগান।
এদিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার। পরে এক পর্যায়ে তাঁরা বিক্ষোভরতেদর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।
মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি হলো: ১. নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ। ২. আহতদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ। ৩. শিক্ষকদের ওপর সেনাসদস্যদের হামলার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা। ৪. নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান। ৫. পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বিমান বাতিল করে আধুনিক বিমান চালু। ৬. প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও কেন্দ্র মানবিক ও নিরাপদভাবে সংস্কার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, “যদি ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ গোপন করার মতো অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিকতার চরম লঙ্ঘন। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র তথ্য গোপন নয়, বরং জনগণের আস্থা ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখানে ড. ইউনূসের নাম উঠে আসাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি এখন রাজনৈতিকভাবে কেন্দ্রীয় আলোচনায় রয়েছেন।”
তারা বলছেন, “সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে, আর গোপনাচার হলে তা দ্রুত তদন্তের আওতায় আনতে হবে। মাইলস্টোনের শিক্ষার্থীরা যে সচেতনভাবে প্রতিবাদ করছে, তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। তাদের ৬ দফা দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং সরকার ও সেনাবাহিনীর তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।”
বিমান বিধ্বস্তের এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা, সামরিক স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে বড় এক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো—ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্যের স্বচ্ছ প্রকাশ এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন