Insight Desk
প্রকাশ : Mar 2, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

কারচুপি ও দায়মুক্তির রাজনীতি—কঠোর হুঁশিয়ারি শেখ হাসিনার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক নির্বাচন, দায়মুক্তি আইন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেন, ভোটগ্রহণের সময় ও ফলাফল ঘোষণায় অসঙ্গতি ছিল।

তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে যে পরিসংখ্যান প্রকাশ হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, “ভোটাররা ভোট না দিলেও ৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছে বলা হচ্ছে। সাড়ে তিন ঘণ্টায় ১৪ শতাংশ, পরে তা বেড়ে ৫৯ শতাংশ—এতে কারচুপির প্রশ্ন ওঠে।”

আওয়ামী লীগ আমলের নির্বাচন নিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দিনের ভোট রাতে করার অভিযোগ আনা হতো। এখন দিনের ভোট আগের দিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে—এটা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?”

‘ইনডেমনিটি প্রত্যাহার ও বিচার দাবি’

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এই দায়মুক্তি প্রত্যাহার করে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

তিনি নির্যাতিতদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে যেন মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা না নিলে আদালত বা অনলাইনে করার পরামর্শ দেন। তার মতে, এতে ভবিষ্যতে বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা সহজ হবে।

মার্চের কর্মসূচি ঘিরে বার্তা

৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ স্মরণ করে তিনি বলেন, এটি বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়া একটি অনন্য ভাষণ। ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন শিশু দিবস হিসেবে যথাযথ মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতির কথাও বলেন।

দারিদ্র্য ও অর্থনীতি প্রসঙ্গ

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার আমলে দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছিল। তিনি বলেন, “আমরা দারিদ্র্য ১৮ শতাংশে নামিয়েছিলাম, হতদরিদ্রের হার ৫ শতাংশে এনেছিলাম।” বর্তমান পরিস্থিতিতে দারিদ্র্য বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় শালীনতা

বক্তব্যে তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের কিছু ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, “আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও শালীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

দেশে ফেরার ইঙ্গিত

নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ হলে তিনি দেশে ফিরবেন। “আমি পরোয়া করি না। সময় হলে ফিরব,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষে তিনি রমজান ও ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান এবং দলীয় স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সারজিস আলমরা নব্য মোস্তাক, বললেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

1

কাফনের কাপড় পরে এনবিআরে ফের কলম বিরতি

2

জুলাইয়ে নিহত পুলিশদের অপমান করলেন চট্টগ্রামের এসপি!

3

বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা: দিল্লিতে ডি.জি.এফ.আই

4

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন খেলার মাঠ পার্বত্যাঞ্চল; আলোচনায় চট্টগ্র

5

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

6

দিয়াবাড়িতে মিছিল শেষে নিখোঁজ: তুরাগ নদী থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর

7

মরিচের ঝালে কাঁদছে দেশ, রাজত্ব করছে বিএনপি-জামাতের লুটেরা জো

8

ইউনূসের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন নিয়েছেন তারেক, গ্যাঁড়াকলে

9

ইউনুস সরকারের অস্ত্র চুক্তি বিতর্কে খলিলুরের দায় এড়ানো মন্তব

10

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: বাঙালির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও

11

রাষ্ট্রের ট্যাক্স অফিস এখন নিলামে : এনবিআরের চেয়ারম্যান পদে

12

বাংলাদেশের রঙ্গিন বিপ্লব ও জাতিসংঘের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা

13

চীনের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি, হুকির মুখে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব

14

চাঁদাবাজদের গডফাদার নাহিদের রয়েছে জঙ্গি কানেকশন

15

ড. ইউনূসের পৈতৃক বাড়ির ফটকে দেয়াললেখা: জনরোষের প্রতিফলন বলছে

16

জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ এখনো জীবিত, তবে অবস্থা ক্রিটিক্যাল

17

বাংলাদেশের ওপর জঙ্গিবাদের তকমা, গণহারে হচ্ছে ভিসা প্রত্যাখান

18

হরতালে সড়কে যানবাহন কম, জনগণের মৌন সমর্থন

19

ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আস্ফালন

20