Insight Pulse
প্রকাশ : Oct 13, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ফ্রান্সে অবস্থানরত ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের অনলাইন কার্যক্রমে গুজব ও উসকানি

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্রান্সে অবস্থানরত চিকিৎসক ও অনলাইন কর্মী ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে গুজব, প্রোপাগান্ডা ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রকাশিত একাধিক পোস্ট ও ভিডিও দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের রাজনীতি, প্রশাসন এবং সামাজিক ইস্যু নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার কিছু পোস্টে এমন সব দাবি করা হয়, যা সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে নিশ্চিত হয়নি।

১২ অক্টোবর রাতে ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের “অস্বাভাবিক মুভমেন্ট” দেখা যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য ‘ক্যু প্রচেষ্টা’ রুখে দিতে জনগণকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। একই রাতে তিনি আরও একটি পোস্টে ছাত্র ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের “রাতেই রাজপথে নামতে” অনুরোধ করেন। এসব পোস্টে ব্যবহার করা ভাষা ও আহ্বানকে অনেকেই উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেছেন। তবে সেনাবাহিনী সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক মুভমেন্ট বা সামরিক কার্যক্রম ঘটেনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব বলে মন্তব্য করেছে।

ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের নাম অতীতেও বিতর্কের সঙ্গে জড়িত ছিল। ২০০৮ সালে তার মালিকানাধীন ‘পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস’ কোম্পানির সরবরাহ করা কালাজ্বরের ওষুধে কার্যকর উপাদান না থাকার অভিযোগে বহু রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সে সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, ওষুধটিতে কার্যকর উপাদান ছিল না। তদন্তে কোম্পানির বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিললেও পরবর্তীতে ডা. পিনাকী ভট্টাচার্য ফ্রান্সে চলে যান এবং সেখান থেকেই অনলাইন মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয়তা বজায় রাখছেন।
এছাড়াও নারীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করার জন্য তিনি ‘৩ ইঞ্চি’ নামে বেশি পরিচিত।”

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলন, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও পরবর্তীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার বেশ কিছু পোস্ট ও বক্তব্য দেশে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং এ ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রশাসন ও সাইবার ইউনিট বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে । 

বিশেষজ্ঞরা সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইনে অপ্রমাণিত বা ভিত্তিহীন তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে এবং শুধুমাত্র যাচাইকৃত উৎসের খবরের ওপর নির্ভর করতে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সীতাকুণ্ডে শ্যামাপূজার মণ্ডপে সাংবাদিকের ওপর সাম্প্রদায়িক হা

1

জামায়াতকে জাতীয় নির্বাচনে জয়ের গ্রিন সিগনাল দিয়ে দিলেন ইউনূস

2

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি অস্ত্রের জোগান আসছে কোথা থেকে ও কিভ

3

হুমকিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, পাকিস্তানি কনফেডারেশনের নতুন ষ

4

চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে: জাতীয় স্ব

5

ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আস্ফালন

6

সাঙ্গপাঙ্গদের ভুলে শুধু নিজের আখেরটাই গোছালেন ইউনূস

7

আরাকার সেনা অনুপ্রবেশে পাহাড়ে অশান্তি

8

ট্রাম্পের ইসলামবিরোধী নীতি কার্যকরে দেশে আনাগোনা বেড়েছে মার্

9

কোটায় অস্ত্রের লাইসেন্স আসিফ মাহমুদের?

10

শেখ হাসিনার দৃঢ় বার্তা: “গণতন্ত্র, বৈধ সরকার ও জনগণের অধিকার

11

সেনাবাহিনীকে ঘিরে ষড়যন্ত্র, পাহাড়ে অশান্তির পেছনে জামায়াত-শি

12

বগুড়ায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে

13

এনসিপি নেতাদের কক্সবাজার সফর: নেপথ্যে বোয়িং চুক্তিতে ২৫% কমি

14

আমেরিকা থেকে যুদ্ধবিমান কেনাতেই কি এই বিমান বিধ্বস্তের পরিকল

15

মবকে বৈধতা দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

16

পাকিস্তানকে ৭১-এর গণহত্যার দায় মুক্তি দিতে ইউসূসের যত আয়োজ

17

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে হাইজ্যাক করেছে জঙ্গিরা?

18

বেপোরোয়া জুলাই যোদ্ধারা, মবের নামে ফের কণ্ঠরোধ

19

‘ছয় মাসের বেশি টিকবে না—এসব শুনতে শুনতে ১০ বছর কাটিয়ে দিলাম’

20