নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একজন চৌকস কর্মকর্তা হাসানের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, সন্তানদের দেখে বাড়ি ফেরার পথে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ক্যাডাররা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর এই হামলা চালায়।
জানা গেছে, শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে অতর্কিতভাবে এই হামলার শিকার হন ডিবি কর্মকর্তা হাসান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন তিনি। তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন স্পষ্ট।
এই হামলার নেপথ্যে ২০২১ সালের একটি ঘটনাকে দায়ী করা হচ্ছে। সে সময় অফিসার হাসান এক অভিযানে ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলামকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ নিতেই শিবিরের সন্ত্রাসী ক্যাডাররা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে এই হামলা চালিয়েছে।
ডিবি কর্মকর্তা হাসান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। পুলিশ বাহিনীতে তিনি একজন দক্ষ ও সাহসী অফিসার হিসেবে পরিচিত। তাঁর ওপর এমন বর্বরোচিত হামলায় পুলিশ বিভাগে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনাকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ডিবি কর্মকর্তা হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলায় ১৫ পুলিশ সদস্য হত্যার পেছনেও জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ছিলেন, যারা স্থানীয় এবং ২২ বছর বয়সের আশপাশে ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের সময়ও পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
বিশ্লেষকরা বলেন, ওই সময় আন্দোলন দমন করতে জামায়াত-শিবিরসহ অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যবস্থাপত্রমূলক সহিংসতা চালিয়েছিল। পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় প্রায় তিন হাজার পুলিশ হত্যা ও হামলার শিকার হয়েছিল, এবং এসব হামলার পেছনে শিবিরের প্রভাব স্পষ্ট ছিল।
মন্তব্য করুন