Insight Desk
প্রকাশ : Aug 7, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গুপ্ত রাজনীতি করতে গিয়ে ধরা খেল চট্টগ্রামের এসপি

নিজস্ব প্রতিবদক

জুলাই-আগস্ট মাসে দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হামলা ও হত্যাকাণ্ডে যখন পুরো জাতি শোকাহত, তখন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলামের একটি বক্তব্য জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে জুলাই ঐক্য বিনষ্ট করা হচ্ছে। আপনারা ষড়যন্ত্রকারীদের বলে দেবেন, আপা আর আসবে না, কাকা আর হাসবে না।”

এই বক্তব্যকে জুলাই আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননাকর বলে উল্লেখ করেছেন পুলিশ সদস্যদের পরিবারগুলো।

গুপ্ত রাজনীতির অভিযোগ এসপির বিরুদ্ধে

এসপি সাইফুল ইসলামের বক্তব্য ও অতীত কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। অতীতে আওয়ামী লীগ আমলে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কয়েকটি পোস্টে দেখা যায়, তিনি পুলিশের তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন। অনেকে এটিকে “দুইপাশে খেলা করা গুপ্ত রাজনৈতিক অবস্থান” বলে মনে করছেন।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর, দেশজুড়ে ৬৬৪টি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে লুট হয় ৫,৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬,৫১,৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চায়না রাইফেল, শটগান, এলএমজি, এসএমজি, গ্যাস লঞ্চার এবং সাউন্ড গ্রেনেড। এ অস্ত্রসম্ভার বর্তমানে জেল পালিয়ে যাওয়া আসামি, সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদের হাতে চলে গেছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলাকারীদের বয়স ছিল ১৭ থেকে ২২ বছর। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন শিবিরের সদস্য ছিল এবং তাদের কার্যক্রম ছিল জঙ্গি কৌশলের মতো। তারা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে থানায় হামলা চালিয়ে ওসির বাসভবনেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১৭ পুলিশ সদস্য নিহত হন। 

সরকারি তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে নিহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিবারের অভিযোগ, যথাযথ তথ্য ও সহানুভূতির অভাবে তারা বঞ্চিত ও অবহেলিত বোধ করছেন।

অনানুষ্ঠানিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, আন্দোলনের সময় ৩ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৪৪ বলে জানানো হয়েছে।
 
চট্টগ্রামের এসপির বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান ও পুলিশের ওপর দেশজুড়ে চলা সহিংসতার ঘটনায় একটি গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস মিলছে। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিপর্যয় ও মতাদর্শিক বিভাজন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গণমাধ্যমে ফের থাবা, জামায়াত বিএনপিকে নিয়ে এবার জনকণ্ঠ দখল এন

1

পোশাকনির্ভর অর্থনীতিতে চাপে বাংলাদেশ: ভারতের কৌশলে ধীরে ধীরে

2

ইয়াবার প্রতি প্রবল আসক্ত আয়াস, ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিস্ফোরক দাবি

3

শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আওয়ামী লী

4

দুর্নীতিবাজ জঙ্গি উপদেষ্টা আসিফকে রুখবে কে

5

নির্বাচন সামনে রেখে জানুয়ারিতে সহিংসতা দিগুণ, মানবাধিকার পরি

6

আমেরিকার গণমাধ্যমে মার্কিন ষড়যন্ত্রের খবর ফাঁস করলেন ইউনূস

7

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা, এবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করল আরব আমি

8

ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্থনীতি স্থবির, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের

9

গণতন্ত্রের নামে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত? তালেবান অভিজ্ঞতা সামনে র

10

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

11

জনমনে প্রশ্ন সেনাবাহিনী কি এখন এনসিপির পাহারাদার বাহিনী

12

সিলেট হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইকারীদের রাজত্ব: নেপথ্যে কোন অদৃশ্

13

জঙ্গিবাদের উত্থানে দেশে বেড়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতন

14

ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের নির্দে

15

ইউনূসের ছত্রছায়ায় ছাত্র উপদেষ্টাদের দুর্নীতির মহোৎসব

16

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি অধ্যাপক আটক পুলিশের আ

17

জুলাই আন্দোলন: গুজব, ষড়যন্ত্র আর দেশ বিক্রির কালো গল্প ফাঁস

18

হাটহাজারী ট্যাংক দুর্ঘটনা এবং চীনা সামরিক সরঞ্জামের বাস্তবতা

19

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল: “প্রেস সচিব উন্মাদের মতো উল্

20