Insight Desk
প্রকাশ : Oct 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

৫ আগস্টের পর নীরব, এখন ‘কমিটি বাণিজ্য’ বিতর্কে রকেট

৫ আগস্টের পর নীরব, এখন ‘কমিটি বাণিজ্য’ ঘিরে আলোচনায় ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি উত্তম চক্রবর্তী রকেট।

ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি উত্তম চক্রবর্তী রকেটকে ঘিরে নতুন করে সাংগঠনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় তাঁকে দলীয় কোনো দৃশ্যমান কর্মসূচিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। শুধু মাঠের রাজনীতিই নয়, অনলাইনেও আওয়ামী লীগ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষে উল্লেখযোগ্য কোনো সাংগঠনিক ভূমিকা, বিবৃতি, প্রচার বা সক্রিয়তা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ করছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

একই সময়ে যখন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মী মামলা, গ্রেপ্তার, আত্মগোপন এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তখন উত্তম চক্রবর্তী রকেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কঠিন সময়ে তাঁকে প্রকাশ্যে দলীয় কর্মসূচিতে দেখা না গেলেও বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রেখে নিরাপদে চলাফেরা করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর শাখার কমিটি পুনর্গঠন এবং নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের আলোচনায় তাঁর নাম আবার সামনে এসেছে। এখান থেকেই ‘কমিটি বাণিজ্য’, আর্থিক লেনদেন, ব্যক্তিগত বলয় তৈরি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে উঠতে শুরু করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, দলের কঠিন সময়ে যারা সক্রিয় ছিলেন, ঝুঁকি নিয়েছেন এবং সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রেখেছেন, তাঁদের একটি অংশকে পাশ কাটিয়ে নিষ্ক্রিয় বা ব্যক্তিগতভাবে ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার চেষ্টা চলছে। দলীয় পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ত্যাগ, সাংগঠনিক ভূমিকা ও মাঠের সক্রিয়তার বদলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে তারাকান্দা উপজেলা কমিটি ঘিরে এই বিতর্ক আরও তীব্র। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, নতুন কমিটি দেওয়ার নামে দীর্ঘদিনের সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অপেক্ষাকৃত নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের সামনে আনা হচ্ছে। একই সঙ্গে পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া, ব্যক্তিগত আনুগত্যের ভিত্তিতে পদ বণ্টন এবং একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ তৈরি করার অভিযোগও রয়েছে।

উত্তম চক্রবর্তী রকেটের কমিটি গঠনসংক্রান্ত ভূমিকা নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁকে ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তাঁকে বহাল রেখেই ১০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে আগের কমিটির দায়িত্বশীল পদে থাকা বেশির ভাগ পুরোনো নেতা জায়গা না পাওয়ায় সে সময়ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। 

এর আগে গৌরীপুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২১ সদস্যের কমিটিও উত্তম চক্রবর্তী রকেট ও জেলা সাধারণ সম্পাদকের অনুমোদনে গঠিত হয়েছিল। ভালুকা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিও তাঁর যৌথ স্বাক্ষরে ঘোষণা করা হয়। ফলে উপজেলা ও পৌর কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। 

অতীতেও তাঁকে ঘিরে বিতর্কের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের একটি মন্দির দখলের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্দির কমিটির কয়েকজন সদস্য। ওই অভিযোগও সে সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। 

বর্তমান অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হচ্ছে পদ বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন উপজেলা কমিটিতে পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং ব্যক্তিগত বলয় শক্তিশালী করতে কমিটি ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। রকেট কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে এই নির্দিষ্ট আর্থিক অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রকাশ্য নিরীক্ষিত নথি বা আদালতের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।

৫ আগস্টের পর তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। দলীয় কার্যক্রমের কঠিন সময়ে মাঠে কিংবা অনলাইনে উল্লেখযোগ্য কোনো দৃশ্যমান অবদান না থাকার অভিযোগের বিপরীতে এখন হঠাৎ করে উপজেলা কমিটি গঠনের আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠা তৃণমূলের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

প্রশ্ন উঠছে, সংগঠনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে যারা সক্রিয় ছিলেন না, তারা এখন নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কতটা নৈতিক কর্তৃত্ব দাবি করতে পারেন? একই সঙ্গে দলের জন্য ঝুঁকি নেওয়া নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে যদি অর্থ, ব্যক্তিগত আনুগত্য বা গ্রুপিংয়ের ভিত্তিতে পদ বণ্টন করা হয়, তাহলে তৃণমূলের আস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে তারাকান্দাসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয়ভাবে যাচাই করার দাবি উঠছে। পদ বণ্টনে আর্থিক লেনদেন, স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন কমিটি গঠনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক ভূমিকা, অনলাইন ও অফলাইন সাংগঠনিক সক্রিয়তা, মাঠপর্যায়ের অবদান এবং দলের কঠিন সময়ে অবস্থান যাচাই করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

উত্তম চক্রবর্তী রকেটের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নৌকা ছেড়ে শীষে—সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনের অবস্থান বদলে ময়মনসি

1

ভোটে পুনর্গণনার দাবি এনসিপির

2

কোভিডে স্বচ্ছতা, হামে নীরবতা

3

নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা, পুনর

4

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানার পর আরও বেপোরোয়া বিএনপি

5

ডেঙ্গু-হামে বিপর্যস্ত দেশ: ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২০০ ছাড়াল, সেপ্টে

6

গোপালগঞ্জে বিচারবহির্ভূত হত্যা চালাল সেনাবাহিনী, নিহত ৭

7

ষড়যন্ত্রের নীল নকশা ফাঁস: গুজব-মব দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে সরাতে চা

8

নতুন সরকার 'সামন্তবাদী চর্চা’ নিয়ে সমালোচনা

9

তৃণমূলের আস্থার প্রতীক নুর মিয়া, ঐক্যবদ্ধ যুবলীগের লক্ষ্য এখ

10

সারজিস আলমরা নব্য মোস্তাক, বললেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

11

মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা, হাজার ডলারের আক্রমণ আধুনিক যুদ্ধে

12

মরিচের ঝালে কাঁদছে দেশ, রাজত্ব করছে বিএনপি-জামাতের লুটেরা জো

13

খাটের ওপর পড়ে ছিল ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীর মরদেহ

14

দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতিফলন: রাডার প্রকল্পে শেখ হাসিনা সরকার

15

যেকোনো সময় শুরু হতে যাচ্ছে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট–টু’

16

শি, মোদি, পুতিনের ঐক্যের বার্তা, ইউনূসের কপালে চিন্তার ভাঁজ

17

শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ভারতে একাধিক আয়োজন, থাকবেন বিজ

18

সুন্দরবনে কোলাহলপূর্ণ পিকনিক: সমালোচনার কেন্দ্রে উপদেষ্টা সৈ

19

আওয়ামী লীগ নিষেধাজ্ঞা—অধ্যাদেশ টিকবে, নাকি বাতিল হবে?

20