Insight Desk
প্রকাশ : Feb 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ভারতের নীরব কূটনৈতিক তৎপরতা, পুনর্মূল্যায়নে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

বিশেষ প্রতিবেদন 

বাংলাদেশের দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত নীরবে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতা থেকে দুই দেশ বাংলাদেশের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে জানিয়েছে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র।

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর–এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং প্রতিবেশী মিয়ানমারের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে।

এর পরদিন বুধবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ও ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা–এর মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বারিধারায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে হওয়া এই বৈঠকটি কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একই দিনে এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন গুলশানে নিজ বাসভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং তাদের কন্যা জাইমা রহমান–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একই দিনে বিরোধী রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পরে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক—এই ঘটনাপ্রবাহকে পর্যবেক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ফলাফলের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লি সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে। আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ধরন ও অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মূল্যায়ন ও তথ্য বিনিময় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘনিষ্ঠ একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। সে কারণে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোকে উভয় দেশই প্রয়োজনীয় মনে করছে।

সূত্রটি আরও জানায়, অতীতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বাংলাদেশ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য দেখা গেছে এবং কখনো কখনো প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতাও ছিল। বর্তমান এই যোগাযোগ সেই ধরনের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আরেকটি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, ভারতের জন্য বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ তার সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেখছে বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যের অংশ হিসেবে।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের এই সমন্বিত ও নীরব যোগাযোগ আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে এবং তা দেশটির রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অসুস্থতা ও ‘মিথ্যা’ মামলা: ১ বছরের বেশি কারাগারে শামসুন্নাহা

1

সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে গুজব নিয়ে হাজির প্রেস সচিব

2

জেলায় জেলায় বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ

3

কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা: জামায়াত কর্মীর বিরুদ্

4

ধর্ম ব্যবসা থেকে ভোট ব্যবসা, জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক পতনের

5

কোটার জায়গায় কোটা রইল, মেধার হলো না জেতা

6

সতের মাসে ৬ হাজার নিখোঁজ, রাষ্ট্র নীরব—ড. ইউনুসের দুঃশাসন

7

সমুদ্রের মূল্যবান খনিজ সম্পদ লুটতে কক্সবাজারে আসছে নরওয়ের গ

8

এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও T20 বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিল ICC

9

ইউনূস সরকারের শাসনে নারী নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র: গাইবান্ধায়

10

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপির চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট দেশ, নিশ্চুপ প্রশা

11

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বর্জনের ডাক

12

গোপন চুক্তির পরই আমেরিকান বোয়িং কেনা!

13

ইউনূস সরকার মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ : এইচআরডব্লিউ

14

‘জয় বাংলা’ বলায় মনোনয়ন স্থগিত: বিএনপির পদক্ষেপে প্রশ্ন, মুক

15

দেশ ধ্বংস করতে জামায়াত-শিবিরের ছাত্র-জনতার ব্যানার

16

ইউনূসের রাষ্ট্রীয় দুর্বলতায় বাড়ছে মন্দিরে হামলা; জঙ্গিবাদের

17

মালয়েশিয়ায় আটক ৩৬ জঙ্গিকে নির্দোষ বললেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

18

নির্বাচন কেমন হতে পারে ইসিতে নমুনা দেখাল বিএনপি

19

বদলির আদেশ বাতিল ও এনবিআর চেয়ারম্যানকে অপসারণে লাগাতার কর্মস

20