Insight Desk
প্রকাশ : Sep 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় শেখ হাসিনা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

বাংলাদেশে ফেরার প্রশ্নে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা আবারও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, দলীয় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং দেশে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফিরে জনগণের পাশে থেকে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। দলটির বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, মামলা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না—গত দুই বছর ধরে সেটি বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সেই প্রশ্নের উত্তর আরও স্পষ্ট করেছেন। ডিসেম্বরে দেশে ফেরার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, রাজনৈতিক বাধা বা প্রতিকূলতা তাঁকে স্থায়ীভাবে দেশের জনগণ ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে পারবে না।

তাঁর বক্তব্যে দেশে ফেরার বিষয়টির পাশাপাশি গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সাংবিধানিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে দেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়—এমন অবস্থানও দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগের তৃণমূলেও নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থাকা নেতাকর্মীদের একটি অংশ তাঁর প্রত্যাবর্তনকে দলটির সাংগঠনিক পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আবার প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।

তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ কতটা সহজ হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দেশে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা—সবকিছুই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে।

ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এখন কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয় হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। এটি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, দলটির সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত হয়ে উঠেছে।

সব বাধা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশে ফেরার প্রশ্নে শেখ হাসিনার অবস্থান স্পষ্ট—তিনি ফিরতে চান এবং দেশে ফিরে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় থেকে সরে আসেননি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিবির কে প্রতিটি ক্যাম্পাসে হাজার বার গুপ্ত বলার ঘোষনা ছাত্র

1

দিয়াবাড়িতে মিছিল শেষে নিখোঁজ: তুরাগ নদী থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর

2

চরমোনাই নেতার মেয়ের নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ: ওয়াজ ও বাস্তবতার ‘

3

মুক্তিযুদ্ধের বাংলায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের কোনো স্থান নেই

4

তবে কি আরেক পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

5

ভোট না দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন ইউনূস, নতুন অস্ত্র পিআর পদ্ধতিত

6

শিক্ষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত শাহবাগ, রাজধানীর যান চলাচলে স্থবি

7

ইউনূস কারো নয়: ক্ষমতার খেলায় এক স্বার্থপর মুখ

8

‘ওড়না কোথায়’ বলে তরুণীকে হেনস্তা, অভিযুক্ত এনসিপি নেতা

9

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশনকে কানাডা প্রবাসী

10

হাতপাখাই ভরসা যেখানে, বিএনপির "সবার আগে বাংলাদেশ" সেখানে কতো

11

সিলেট হাউজিং এস্টেটে ছিনতাইকারীদের রাজত্ব: নেপথ্যে কোন অদৃশ্

12

জঙ্গির আস্ফালন: প্রতিদিন ১১ খুনের ভয়াবহ তাণ্ডব

13

সারজিস আলমের বিতর্কিত হুমকি: “কলিজা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে রাখব

14

পেকুয়ার কৃতি সন্তান ও জনপ্রিয় যুবলীগ নেতা মোঃ আজমগীর'কে পিবি

15

সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করতে ইউনূস গংদের নিলনকশা: মুক্তি দেওয়া হচ

16

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে খুন ধর্ষণ বেড়েছে বহুগুণ

17

নিখোঁজের দুই দিন পর ঝোপে মিলল ৭ বছরের শিশুর মরদেহ

18

বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ

19

আমেরিকান ষড়যন্ত্রে জাতিসংঘের সমর্থনে জামায়াতি চালে পতন হয় শে

20