Insight Desk
প্রকাশ : Aug 15, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সত্য বলার লাইসেন্স কি এখন শুধু প্রেস সচিবের হাতে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে যেন নতুন এক বিজ্ঞান আবিষ্কার হয়েছে—যার নাম “প্রেস সচিবীয় সত্য”। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত খসড়া চুক্তি প্রকাশ না করার বিষয়ে ‘ভুলভাবে কথা বলেছেন’ বলে সদয়ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মানে, সত্য বলার একচেটিয়া অধিকার এখন তাঁর দখলে।

শফিকুল আলমের ভাষ্যমতে, চুক্তি গোপন রাখা নাকি “কূটনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া”। অর্থাৎ, জনগণ কিছু জানবে না—এটাই নাকি কূটনীতি! তবে চুক্তি শেষ হলে, গোপনীয়তার শর্ত তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হবে।  

এই শুল্ক চুক্তি নিয়ে তাঁর নিজেরই আগের বক্তব্য ছিল আরও রঙিন—৩৫% থেকে ২০% শুল্ক কমানো নাকি “বড় কূটনৈতিক সাফল্য”, আর জাতীয় স্বার্থের বিনিময়ে কিছুই হয়নি। অবশ্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ও শীর্ষ সংবাদপত্রের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সামরিক পণ্য ক্রয়, নজরদারি চুক্তি, এবং আমদানি-বাণিজ্যের দীর্ঘমেয়াদি শর্তের গল্প। কিন্তু সেসবের কথা তো জনগণ জানার দরকার নেই—তাদের জানালে যে “স্বচ্ছতা” বিঘ্নিত হতে পারে!

আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা "পালো" সম্প্রতি একটি বিস্ফোরক প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানায়, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত নজরদারি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সামরিক পণ্য ক্রয়, জ্বালানি আমদানি ও সরঞ্জাম বাণিজ্যে দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করেছে। দেশের শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো তাদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক সরঞ্জাম, বেসামরিক বিমান ও যন্ত্রাংশ আমদানি বাড়াবে। সেই সঙ্গে গম, তুলা, ভোজ্যতেল ও এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হবে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, প্রেস সচিবের বক্তব্য শোনার পর মনে হয় যেন তিনি জাতির মনোবিজ্ঞানী—যার মূল কাজ জনগণকে শান্ত রাখা, সত্য না বলা। আর সরকার? তাদের কাজ নাকি ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ স্ক্রিপ্ট পড়া।

মজার ব্যাপার হলো, এর আগেও এমন ঘটেছে। গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে, প্রেস সচিব বলেছিলেন ড. ইউনূস ট্রাম্পকে একটি ‘ব্যবসাবান্ধব চিঠি’ পাঠাবেন, যা সব সমস্যার সমাধান করবে। 

পরে বিশ্বব্যাপী ৭৫টি দেশের ওপর শুল্ক সাময়িক স্থগিত হলে সেটি ড. ইউনূসের সাফল্য হিসেবে প্রচার হয়। এরপর? শুল্ক সেই আবারও আরোপিত হয়েছে—কিন্তু গল্পের অভাব হয়নি। তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—সত্যি বলার লাইসেন্স কি কেবল প্রেস সচিবের কাছেই আছে, নাকি বাকিদের সত্য বলার অনুমতি সরকার গোপনে বাতিল করে দিয়েছে?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে যুব মহিলা লীগের কর্

1

নতুন সরকার 'সামন্তবাদী চর্চা’ নিয়ে সমালোচনা

2

জুলাই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস, এবার অ্যামোনেশন ম্যাগজিন মিলল

3

ইউনুস সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র: শিক্ষক আন্দোলন ঠেকাতে চট্টগ্র

4

ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানি: ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে টিউলিপের

5

ভোরে কাতার এয়ারওয়েজে দেশ ছাড়লেন আলোচিত ব্যক্তি ইউনুস

6

জেলগেটে বারবার গ্রেপ্তারের পর কারাগারেই আ.লীগ নেতা লিপনের মৃ

7

চাঁদাবাজির টাকায় চলছে এনসিপির রাজনৈতিক খেলা

8

জরিপ: ভোট দিতে যাবেন না ৮৭ ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থক, ৯২ ভাগের স

9

বিচারবিভাগের বৈষম্যঃ একদিনে জামিন বিবি সওদার, এক মাস ধরে কার

10

শেখ হাসিনার কড়া সতর্কবার্তা: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া

11

সেনাবাহিনীর গাড়ি করে গোপালগঞ্জ থেকে পালাল এনসিপির নেতারা

12

আইজিপি বাহারুল ও এসবি চিফ গোলাম রসূলের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

13

৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে চারজন গ্রেপ্তার

14

বেরিয়ে আসছে ছাত্রলীগের গুপ্ত শিবিরের ভয়াবাহ তথ্য, ফেঁসে গেলে

15

জাতীয় পার্টিকে কিছুই করা হয়নি, শুধু ‘একটু দৌড়ানি’ দেওয়া হয়ে

16

চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে: জাতীয় স্ব

17

জঙ্গি নিয়ে ইউনূসের পুলিশবাহিনীর মিথ্যাচার ফাঁস করল মালয়েশিয়া

18

চাইনিজ রাইফেল, এসএমজি ও আড়াই লাখ গুলি নিখোঁজ; আসন্ন নির্বাচন

19

ছাত্রলীগের তীব্র হুঁশিয়ারি: “প্রতিটি জুলুমের কড়ায়-গণ্ডায় হিস

20