মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নারীদের পোশাক, কর্মজীবন এবং জনপরিসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনতা দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই হিজাব বা বোরখা এখন ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংস্কার, পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ নিজেদের সামাজিক নীতিতে পরিবর্তন আনছে। এর ফলে জনজীবনে আধুনিক পোশাক ও জীবনধারার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে ভিন্নধর্মী একটি সামাজিক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কর্মক্ষেত্র—সবখানেই আগের তুলনায় হিজাব ও বোরখার ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সামাজিক পর্যবেক্ষকরা। কেউ এটিকে ধর্মীয় সচেতনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধ প্রকাশের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বায়নের যুগে একই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও অঞ্চলভেদে ভিন্ন সামাজিক বাস্তবতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে যেখানে আধুনিকায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রভাব বেশি দৃশ্যমান, সেখানে বাংলাদেশের একটি অংশ ধর্মীয় পরিচয়কে আরও দৃশ্যমানভাবে ধারণ করতে আগ্রহী হচ্ছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে আরব বিশ্বকে দীর্ঘদিন ধর্মীয় অনুশীলনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে, সেই অঞ্চলের পরিবর্তন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সামাজিক চিন্তাধারায় কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, পোশাক, ধর্মীয় পরিচয় ও আধুনিকতার প্রশ্নে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সমাজ এখন ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে এক দেশের সামাজিক পরিবর্তন অন্য দেশের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাবে, এমন ধারণা সবসময় সঠিক নাও হতে পারে।
মন্তব্য করুন