নিজস্ব প্রতিবেদক:
নৈতিকতা ও গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতির কথা বলে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন চাঁদাবাজি, অর্থ কেলেঙ্কারি ও অস্বচ্ছ অর্থব্যবস্থার অভিযোগ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। আর এমন পরিস্থিতিতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখপাত্র সারজিস আলমের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে সমালোচনা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানকে নিয়ে প্রশংসাসূচক ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সেনাবাহিনী ও বর্তমান সেনাপ্রধান।
এই স্ট্যাটাসটি তিনি এমন সময় দিয়েছেন যখন গুলশান-২-এ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা চাইতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। এনসিপি পরবর্তীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাদের বহিষ্কারের কথা জানালেও বিতর্ক থামেনি—বরং দলটির ‘নৈতিক রাজনীতি’ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আরও জোরালোভাবে। এরইমধ্যে আইওয়াশ করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সব কমিটি স্থগিত করেছে।
তবে তাদের চাঁদাবাজির মাধ্যমেই মূলত এনসিপির কর্মকাণ্ড পরিচালিত। আর এ সংক্রান্ত নানা অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়েই সেনাবাহিনীর পক্ষে সারজিস স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে মনে করছে বিশ্লেষকেরা।
সারজিসের অপকর্মের ঘটনা নতুন নয়। এরমধ্যে অনেকগুলোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখপাত্র সারজিস আলমসের নামে ৭ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এক ব্যক্তির কাছ থেকে আইফোন নেওয়ার একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটও ভাইরাল হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে সারজিস শতাধিক গাড়ি নিয়ে পঞ্চগড়ে শোডাউন করে—যা অনেকেই ‘জমিদারি কায়দা’ বলে অভিহিত করেন।
সারজিস আলম সেনাপ্রধানকে ঘিরে এক স্ট্যাটাসে তিনটি মূল তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রথমত সেনাপ্রধান নিয়মিত প্রতি শনিবার সিএমএইচ-এ যেতেন এবং তার উপস্থিতির পরিমাণ অন্য সব উপদেষ্টার চেয়ে বেশি ছিল। দ্বিতীয়ত সবচেয়ে গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ঢাকার সিএমএইচ-এ। তৃতীয়ত আহত ও শহীদ পরিবারের সহায়তায় সেনাবাহিনী, বিশেষ করে সেনাপ্রধান, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসব তথ্য সত্য হলেও সারজিস আলমের হঠাৎ এমন ‘চাটুকারিমূলক’ পোস্ট সন্দেহজনক। তিনি আগে সেনাপ্রধানের সমালোচনায় ছিলেন, হঠাৎ করে এই প্রশংসা কেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
বিশ্লেষকেরা আরও বলছেন, সেনাবাহিনী সবসময় অপ্রিয় নয়, কিছু নির্দিষ্ট ঘটনায় (যেমন গোপালগঞ্জের ঘটনা) সেনাবাহিনী সমালোচিত হয়েছে, তবে গোটা বাহিনী নয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারজিস আলম হয়তো চাপে পড়ে, বা নিজের কোনো দুর্বলতা ঢাকতে গিয়ে এ ধরনের স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, এই চাঁদাবাজির খবর দেখে আশেপাশের সবাই এত অবাক হওয়ার ভান করছেন, বিষয়টা কিছুটা হাস্যকর বটে। বলতে হবে, এই প্রথম কোনো চাঁদাবাজি করতে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে ধরা খেল। ঠিকমতো খোঁজ নিলে বুঝবেন, এঁদের শেকড় অনেক গভীরে।
বিশ্লেষকদের মতে, সারজিসের এমন তৈলাক্ত স্ট্যাটাসই বুঝিয়ে দিচ্ছে বৈষম্যবিরোধীদের শেকড় আসলে কতটা গভীরে।
মন্তব্য করুন