Insight Desk
প্রকাশ : Aug 8, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এক সময়ের নোবেলজয়ী ‌‘মানবতার মুখ’ এখন বাংলাদেশের নতুন স্বৈরশাসক

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মঞ্চে সবচেয়ে উঁচু পর্যায়ে ওঠার আগে, মুহাম্মদ ইউনূসকে মনে করা হতো একজন প্রগতিশীল অর্থনীতিবিদ এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের পথিকৃত হিসেবে। নোবেল পুরস্কারজয়ী এই ব্যক্তি ডাভোস থেকে হোয়াইট হাউস, এমনকি বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু পর্যন্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত। অনেকের চোখে তিনিই ছিলেন সেই ব্যক্তি, যিনি “জুলাই বিপ্লব”-এর পর বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের আশার প্রতীক।

কিন্তু এখন, এই বিপ্লবের এক বছর পর বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউনূস এখন স্বৈরশাসকে পরিণত হয়েছে। লন্ডন গ্লোবের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার শাসনামলে নির্বাচনের কোনো রোডম্যাপ না দিয়ে বিরোধী দল নিষিদ্ধ, এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত করছে। নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা তেমন নেই, যদিও তিনি বিদেশে নারীদের সমর্থন করেন।

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন করছেন, তিনি কি আসলেই পরিবর্তনের প্রতীক নাকি এক ছদ্মবেশী শাসক, যিনি দেশের গণতান্ত্রিক স্বপ্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। মুহাম্মদ ইউনূসসের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পেছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করা এখন সময়ের দাবি।

নড়বড়ে অর্থনীতি

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক এবং বিনিয়োগবান্ধব অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তিন দিনব্যাপী সেই সম্মেলনের পর চীন থেকে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি এবং বিপুল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো নানা দাবি করা হয়।

কিন্তু এসব দাবি এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পূর্বের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কারণ, বাংলাদেশ বর্তমানে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে। দেশের ব্যাংকিং খাত প্রায় ধসের মুখে, যেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৩ লাখ কোটি টাকা , যা মোট ঋণের প্রায় ৩০ শতাংশ।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ইউনূস সরকারের ব্যর্থ ব্যবস্থাপনার কারণে ভবিষ্যৎ খুব একটা আশাব্যঞ্জক দেখাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে, যেখানে ২০২৪ সালের অক্টোবরে তাদের পূর্বাভাস ছিল ৪.১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) একই অর্থবছরের জন্য তাদের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.৭ শতাংশ করেছে।

গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ

২০২৪ সালের আগস্টে ঢাকায় ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর শুরু হয় পরিকল্পিত ও সংগঠিত দমন-পীড়ন। যদিও মুহাম্মদ ইউনুস প্রকাশ্যে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “ইচ্ছামতো লিখুন, সমালোচনা করুন। আপনারা না লিখলে আমরা জানব কীভাবে কী ঘটছে বা ঘটছে না?”

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ১৮২ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে, প্রায় ২০৬ জনকে সহিংসতার মামলায় জড়ানো হয়েছে, ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে, এবং ৮৫ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, যা সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধকারী সংস্থা।

ব্যবস্থাটি এতটাই দমনমূলক যে মুজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্ত, ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদের মতো জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা প্রায় ১১ মাস ধরে সাজানো হত্যা মামলায় কারাগারে থাকলেও তাঁদের জামিন আবেদন পর্যন্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করা হচ্ছে না।

এক প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, “সাংবাদিকতার স্বাধীনতা দীর্ঘদিন ধরেই হুমকির মুখে, কিন্তু এমনটা আগে কখনো হয়নি... এখন সাংবাদিকেরা যেন দেশের প্রিয় টার্গেট। তথাকথিত ছাত্র বিপ্লবীদের এমন ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা যেকোনো মানুষকে হয়রানি করতে পারে। ফলে গণমাধ্যমগুলো এখন আত্মনিয়ন্ত্রণ (সেলফ-সেন্সরশিপ) অবলম্বন করছে, যাতে সরকার এবং কুখ্যাত ছাত্র নজরদারদের দৃষ্টিতে ভালো থাকে।”

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ‘রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ ’।  আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ৮৭৮ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৩০ শতাংশ বেশি।

সংস্থাটির পরিচালক সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে যেখানে ৩৫টি মামলা হয়েছিল, সেখানে ড. ইউনুসের শাসনের প্রথম বছরেই সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১৯৫টি ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে, যা ৫৫৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “হাসিনা সরকারের আমলে সাংবাদিকদের কোনো অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়নি, অথচ ড. ইউনুস ১৬৭ জন সাংবাদিককে অ্যাক্রেডিটেশন থেকে বঞ্চিত করেছেন, যাদের ওপর ‘পূর্ববর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠ’ বলে অভিযোগ ছিল।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকেও ব্যবহার করা হয়েছে ১০৭ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হয়েছেন আরও ৪৩১ জন সাংবাদিক।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ড. ইউনুস ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’ নামে একটি প্রভাবশালী নজরদারি সেল গঠন করেছেন, যা মূলত গণমাধ্যম ও এনজিওদের ভয় দেখিয়ে সরকারের পক্ষে তথাকথিত ‘সত্য’ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। 

আরআরএজি দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের ফরেইন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস থেকে ড. ইউনুসের অফিসের জন্য দেওয়া ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬৮ পাউন্ড সহায়তা প্রজেক্টের  একটি অংশ এই প্রেস উইং ফ্যাক্টস। তারা যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

বেপোরোয়া চাঁদাবাজির সংস্কৃতি

দীর্ঘদিন ধরে মুহাম্মদ ইউনূসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার সম্প্রতি এক সম্পাদকীয়তে সারাদেশে চাঁদাবাজির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তা থেকেই বোঝা যায় পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক। নিউ দিল্লি ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (আরআরএজির) সম্প্রতি দাবি করেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনামলে দলীয় সহিংসতা ঘটনা প্রায় ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তুলনায় অনেক বেশি।

উক্ত মন্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ঢাকা মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা। সেখানে আরও তুলে ধরা হয়েছে ‘ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সংগঠনের নেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদের ঘটনা, যিনি এক সাবেক এমপির পরিবারকে চাঁদা দিতে বাধ্য করেন এবং আরেক সাবেক এমপিকে কোটি কোটি টাকার চেক সই করতে চাপ দেন।

তবে এই দুটি ঘটনা আসলে বৃহত্তর বাস্তবতার ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বাংলাদেশে এখন চাঁদাবাজি যেন এক প্রকার সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া কিছু ছাত্রনেতা কয়েক মাসের মধ্যেই কোটিপতি হয়ে উঠেছেন। স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভাবে চাঁদাবাজির অর্থনীতি যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা দেখে কিছু বিশ্লেষক ব্যঙ্গ করে বলেছেন—সরকারের উচিত এখন একটি জাতীয় চাঁদাবাজি উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করা।

মব সন্ত্রাসের বিস্তার

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশ কেন্দ্র সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যার তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৩ জুন পর্যন্ত অন্তত ১৭৯ জন মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।

গত বছরের জুলাই ও আগস্টের পুলিশের ওপর হত্যাকাণ্ড হয়। এরপর পুলিশের উদাসীনতার কারণে সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়ায় মব সন্ত্রাস প্রবণতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে । একদল সন্ত্রাসী একজন প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপরও (যিনি একজন সাহসী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
কেএম নুরুল হুদার ওপর হামলার পর ৩০ জন বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতিতে দেশের মব সন্ত্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই ধরনের অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ইউনূশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাড়ি পর্যন্ত পোড়ানো হয়েছে মব সন্ত্রাসের হাতে, সেই সময়ই উপস্থিত ছিলেন পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও।

নিউজ১৮ এর প্রতিবেদনে বলা হয়,  সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করার পর বাংলাদেশের মব সন্ত্রাস উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২ আগস্ট ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৩৭ জন, যার মধ্যে ৪১ জন পুলিশ সদস্য মব সন্ত্রাসে নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ এই তথ্য জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী বেআইনি হত্যাকাণ্ডের এক ধারা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়াবহ। এক বছরে  ১৭৯ জনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। "অপারেশন ডেভিল হান্ট" অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৮ হাজার বিরোধী কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো দ্রুত, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করে রেখেছে—যা গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে সামান্য দেরিতেই বিপ্লব স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত

গত বছরের ‘হাসিনা বিরোধী’ আন্দোলনের প্রভাবে উঠে আসা ২০-৩০ বছরের তরুণ নতুন প্রজন্মের নেতা  এখন বাংলাদেশে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে । তারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে, তাদের কারণে পরবর্তী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একজন অধ্যাপক বলেন, ছাত্রনেতাদের হঠাৎ জাতীয় নেতা ও নীতিনির্ধারক হিসেবে আবির্ভাব শিক্ষা ও উৎকর্ষতার প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। আমাদের শেখানো হতো যে একাডেমিক উৎকর্ষতা হলো সফলতার চাবিকাঠি... নতুন প্রজন্মের নেতারা এই নীতিকে উল্টে দিয়েছেন, কারণ তারা সহিংস সড়ক প্রতিবাদের নেতৃত্ব দিয়ে শীর্ষে পৌঁছেছেন। তারা সহিংসতাকে মহিমা দিচ্ছে, অস্ত্র বহন করছে এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিছু প্রধান ছাত্র সমন্বয়কারীর তো কলেজ পাশও হয়নি। তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খারাপ উদাহরণ। ইউনূসকে দায়ী করা উচিত বাঙালি সংস্কৃতি ধ্বংসের জন্য, যেখানে একাডেমিক কার্যক্রম সব সময় সম্মানিত ছিল। তার পাশাপাশি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অস্থিরতা ও যেকোনো অজুহাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর ছায়া ফেলেছে।

নারীরা অবহেলিত

বাংলাদেশে নারীদের কর্মজীবনে ব্যাপক অংশগ্রহণের দিনগুলো এখন অতীত। ঢাকায় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে নারীদের ওপর ঘটে চলা নির্যাতনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে, কারণ দেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইসলামপন্থী উগ্রবাদীরা  বিক্ষোভের সময় ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের একটি নারীর পুতুল উলঙ্গ করে জুতোর মারধর করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনের মতে, চলতি বছরের ২০ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত দেশে ২৪টিরও বেশি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। ইউনূস সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোও এই যৌন সহিংসতাকে “মহামারী-সদৃশ সংকট” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

বেড়েছে জঙ্গি কার্যক্রম-সংখ্যালঘুরা দিশাহারা

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা ইসলামিক উগ্রবাদ এখন জনসমক্ষে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগস্ট ২০২৪ থেকে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত আগস্ট মাসে আল কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী এবিটি (আল বদর ট্রাস্ট) প্রধান মুফতি জসিমউদ্দিন রাহমানি ও তার সহযোগীদের মধ্যে অনেকেই মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির এখন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি শেখ হাসিনা সরকার পতনের সঙ্গেও জড়িত ছিল এছাড়াও রিপোর্ট এসেছে যে, জামায়াতে মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করেছে, যা উপমহাদেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

এদিকে, ১৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীও আছেন, যাদের মধ্যে উগ্রবাদে প্ররোচিত হওয়া এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যতায় আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অর্থ হলো ইউনূস সরকার ইসলামী উগ্রবাদীদের শক্তিশালী করার জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়,  এক বছর আগে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের পতনে উদযাপন হয়েছিল বাংলাদেশজুড়ে। কিন্তু সেই বিপ্লবের এক বছর পর দেশটি গভীর সংকটে পড়েছে—উগ্রবাদের উত্থান, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলেছে।

 অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেই জামিনে মুক্ত করেছে হাজারো জঙ্গিকে, জেলে হামলা চালিয়ে মুক্ত পেয়েছে ৯৮ জন সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী।  ভাস্কর্য ধ্বংসে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর উল্লাস  কিছুই চলছে সরকারি নীরবতায়।

নারীদের পোশাক নিয়ে হয়রানি, হামলা এবং ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তদের “ধর্মযোদ্ধা” বানিয়ে গলায় মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর ১০ মাসে ২,৪৪২টি হামলার অভিযোগ উঠেছে । ২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। চলতি বছরের জুন মাসে কুমিল্লা এলাকায় একজন বিবাহিত হিন্দু নারীর নির্মম ধর্ষণ ও জনসমক্ষে অপমানের ঘটনা দেশটিতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতার বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। গত কয়েক মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম হামলার ঘটনা এবং মন্দিরে হামলার ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যেখানে বাংলাদেশের ধর্মীয় উগ্রবাদীদের দ্রুত উত্থানের শঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এটি বিভ্রান্তিকর ও একতরফা বলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় মৌলবাদীরা নারীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে—ফুটবল খেলা বন্ধ থেকে প্রকাশ্যে নারীদের হেনস্তা পর্যন্ত ঘটনা ঘটছে।

ঢাকায় এক বিক্ষোভে ইসলাম অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং নিষিদ্ধ গোষ্ঠী ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে উগ্রবাদীরা গড়ে উঠছে, যা দেশের গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘুদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নারী শিক্ষার্থীরা যারা গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আশা নিয়ে আন্দোলনে ছিল, তারা এখন ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর নয় বলে সমালোচিত।

স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের ফুটবল খেলায় নিষেধাজ্ঞা, সংখ্যালঘু আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা এবং তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতি এই উগ্রবাদের প্রকট রূপ। রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা শক্তিশালী হচ্ছে এবং দেশের ভবিষ্যতের জন্য বড় সংকট সৃষ্টি করছে।

রিসেট বাটনে পুশ

অস্থায়ী সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের ‘জাতির পিতা’ পদবি তুলে দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনা থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। ইউনূস বঙ্গবন্ধু ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পর্কিত আটটি জাতীয় ছুটি বাতিল করেছেন। তার ঘনিষ্টদের একটি পরিকল্পনা অনুসারে ২০২৪ সালকে ১৯৭১ সালের বিপরীতে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা দেশের ইতিহাস পুনঃলিখনের সুক্ষ্ম পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।

ইউনূস সরকারের অধীনে বাংলাদেশে দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন এবং জামায়াত-শিবিরের হামলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের রায়বিরোধী বিক্ষোভে। মে ২৭ তারিখ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ উগ্র ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে প্রদর্শিত হয়ে হামলার শিকার হয়। এর প্রতিবাদে ২৮ মে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আরও একটি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যেটিও “অ্যান্টি-শাহবাগ ইউনিটি” শিরোনামে উগ্র ইসলামপন্থীদের দ্বারা আক্রমণের মুখে পড়ে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়,  মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে সুফিবাদ খুবই জনপ্রিয়, কিন্তু অনুগামীদের দাবি, গত বছর আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে তারা অসাধারণ হুমকির মুখে পড়েছেন।

হাসিনা তার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনকালে ইসলামী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের পর থেকে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো সাহসী হয়ে উঠেছে, আর নিরাপত্তা বাহিনীও সীমিত হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে অন্তত ৪০টি সুফি মাজারে হামলা হয়েছে, যার মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং অন্যান্য সহিংসতা ইসলামীকঠোরপন্থীদের সঙ্গে যুক্ত। অন্য হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা  দ্বিগুণ হতে পারে।

মেধাবীরা দেশ ছাড়ছে

এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের উজ্জ্বল তরুণ মেধাবীরা দেশের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে—যদিও বেশ কিছু দেশ হঠাৎ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে—কারণ তাদের অধিকাংশের চোখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) ১০৪.৩৩ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা অন্তত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কথা তো বাদই দেন, দেশি বিনিয়োগকারীরাও রাজনীতি অস্থিরতা, শ্রমিক আন্দোলন এবং দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে দেশের মধ্যে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, “আমি চাঁদাবাজ হতে পারি না... এই দেশে আমার কোন আশা নেই। আমি আমার প্লাস টু শেষ করে ইংল্যান্ড চলে যাব।”

ছেলেটির মা, যিনি ইউনুস বিরোধী একটি দলের নেতা, বলেন তিনি শুধু ক্যারিয়ার সুযোগের সংকটে নয়, সন্তানের নিরাপত্তার কারণে তার দাবি মেনে নিয়েছেন। “বাংলাদেশ এখন নিরাপদ নয়... যদি টিউশনি থেকে ফেরাতে দেরি হয়, তখন আমার হার্ট রেস করতে শুরু করে,” তিনি বলেন।

কূটনীতি ক্ষতিগ্রস্ত

ইউনূস বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিত্ব হলেও, তার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো সম্পর্কে তার মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সেবাকর্মীদের মুখ লজ্জার সম্মুখীন হতে হয়েছে, এবং প্রতিবেশী দেশের বিষয়ে তার ঘনিষ্টদের অবাঞ্চিত মন্তব্য রোধে ব্যর্থতার কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

যদিও ইউনুস সরকার ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু ঢাকাকে জুন মাসে বড় ধরনের কূটনৈতিক অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ঢাকার এক সূত্র জানিয়েছে, "তার তথাকথিত ইংল্যান্ড রাষ্ট্র সফর ছিল একটি বড় ভুল, কারণ কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে তার সাক্ষাতের আবেদন অবহেলিত হয়েছে.. এটি একটি বড় লজ্জার বিষয়।

প্রোপাগান্ডার সংস্কৃতি

ইউনূস সরকারের নীতি হলো নিজেদের ভুল স্বীকার করতে অস্বীকার এবং তা থেকে শেখার বদলে ভুল ঢাকানোর চেষ্টা করা। ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে তারা নাজি জার্মানির প্রোপাগান্ডা মন্ত্রী জোসেফ গোবেলসের কৌশল অনুসরণ করছে।

সুতরাং,মবকে বিপ্লবের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, হিন্দুদের ওপর আক্রমণকে অবমূল্যায়িত আওয়ামী লীগের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখানো হয়, এবং নারীদের ওপর নির্যাতনকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে তোলা হয়।

ইউনূসের সহযোগীরা অর্থনৈতিক ভুল, আইনশৃঙ্খলার অভাব ও জঙ্গি শক্তির উত্থানকে বিদেশি মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা হিসেবে নস্যাৎ করে দেন। এই ধরনের প্রতারণা  হয়তো কয়েক মাসের জন্য মনোযোগ সরাতে পারে, কিন্তু এতে  কোনও সন্দেহ নেই যে ব্যাংকার ইউনুসের সুনাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওয়াশিংটন টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনো সেই সহিংসতার ক্ষত কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। তবে রক্তপাত ও প্রাণহানির পরও, অনেকের মতে, একটি উদার গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়ে গেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া বিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি জানান, যারা এক বছর আগে  একটি অধিকারসম্মত গণতন্ত্র গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের আশা এখনো পূরণ হয়নি।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজপথে স্বতঃস্ফূর্ত মিছিল আওয়ামী লীগের, অবৈধ ইউনুস সরকারের প

1

বেরিয়ে আসছে ছাত্রলীগের গুপ্ত শিবিরের ভয়াবাহ তথ্য, ফেঁসে গেলে

2

সাজানো–গোছানো কক্ষ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, মাঝপথে সমাপ্ত স্বাস

3

গোপালগঞ্জকে অশান্ত করতে এনসিসি ও ইউনূস গংয়ের পরিকল্পিত হত্যা

4

শিক্ষার আড়ালে বোমা তৈরির কার্যক্রম: মাদ্রাসায় ছড়ানো হচ্ছিল জ

5

শেখ হাসিনার কথিত ‌‘লিকড অডিও’র রহস্য ফাঁস

6

জঙ্গিদের বাঁচাতে গোপালগঞ্জে নিরস্ত্র জনতার ওপর সেনাবাহিনীর গ

7

রাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমার আট বছরের কারাদণ্ড

8

দেশজুড়ে বাড়ছে হত্যা-ধর্ষণ, আতঙ্কিত মানুষ

9

ইউনুস সরকারের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র: শিক্ষক আন্দোলন ঠেকাতে চট্টগ্র

10

এনায়েতপুরে ১৫ পুলিশ হত্যা: জামায়াত-শিবির জড়িত থাকায় এক বছরেও

11

যৌথ নোবেলে ইউনূসের একক রাজত্ব: অংশীদার তাসলিমাকে প্রতারণার জ

12

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনূসকেও পাত্তা দিল না আমেরিকা

13

সেনাবাহিনীর বন্দুকের মুখে ডাকসু নির্বাচন; শিবিরের ভুয়া প্রচা

14

চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট আবার সাধারণ রোগীদেরও হবে কবে?

15

পোশাকনির্ভর অর্থনীতিতে চাপে বাংলাদেশ: ভারতের কৌশলে ধীরে ধীরে

16

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

17

হোলি আর্টিজান হামলা ও ৯ বছর পর জঙ্গি নিয়ে বিতর্ক: সরকার কি চ

18

রাষ্ট্রপতি অপসারাণে জনমত তৈরির চেষ্টা, নিশ্চুপ সেনাবাহিনী

19

নির্বাচন কেমন হতে পারে ইসিতে নমুনা দেখাল বিএনপি

20