Insight Desk
প্রকাশ : Feb 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বড় ঝুঁকির খেলায় ঢাকা: ভারতীয় সুতোতে শুল্ক বসানোর ভাবনা!

ডেস্ক রিপোর্ট 

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাত এমনিতেই চাপে। বৈশ্বিক মন্দা, অর্ডার কমে যাওয়া, ডলার সংকট—সব মিলিয়ে শিল্পে অস্থিরতা চরমে। ঠিক এই মুহূর্তে ঢাকার নতুন ভাবনা—ভারত থেকে শুল্কমুক্ত তুলো সুতো আমদানি বন্ধ করে শুল্ক আরোপ। কাগজে-কলমে এটি স্বদেশি শিল্প সুরক্ষার উদ্যোগ মনে হলেও বাস্তবে সিদ্ধান্তটি হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর ঝুঁকির খেলা।

শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশের বাণিজ্য ও সরবরাহ কাঠামোতে দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। কাঁচা তুলোর ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বড় বদল এসেছে। ভারতকে টপকে ব্রাজিল এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তুলো সরবরাহকারী। কিন্তু সুতো আমদানির বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বর্তমানে বাংলাদেশের তুলো সুতো আমদানির সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। দেশের স্পিনিং মিলগুলোর বড় একটি অংশ ভারতীয় সুতো ছাড়া কার্যত অচল। বিশেষ করে মাঝারি ও ছোট মিলগুলো বিকল্প উৎসে দ্রুত সরে যাওয়ার মতো সক্ষমতা রাখে না। অন্যদিকে, ফিনিশড ফেব্রিক্সের বাজারে চীনের আধিপত্য আগের মতোই অটুট।

এই বাস্তবতায় ভারতের ওপর রাজনৈতিক বা কৌশলগত চাপ বাড়াতে গিয়ে একই সঙ্গে ভারতীয় ইনপুটের ওপর নির্ভরশীল থাকা—বিশেষজ্ঞদের মতে এটি আত্মঘাতী কৌশল। শুল্ক আরোপ হলে সুতো আমদানির খরচ বাড়বে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তার চাপ পড়বে রপ্তানি পোশাকের দামে। বৈশ্বিক বাজারে যেখানে বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রতিযোগিতার মুখে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সুতো সংকট তৈরি হলে অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—সবকিছুই তখন চাপে পড়বে। শিল্প বাঁচানোর নামে নেওয়া সিদ্ধান্ত উল্টো পুরো শিল্পকেই গভীর সংকটে ঠেলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, নয়া দিল্লির পক্ষেও বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনীতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল এখন কেবল ব্যবসায়িক বিষয় নয়—এগুলো সরাসরি কৌশলগত অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যদি শুল্কনীতি বদলের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে, তবে ভারতও নিজের অবস্থান নতুন করে হিসেব করতে বাধ্য হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাণিজ্য সিদ্ধান্তগুলো আর এককভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একদিকে চীন, অন্যদিকে ভারত—এই দুই শক্তির মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি অর্থনৈতিক পদক্ষেপই এখন কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

সব মিলিয়ে ভারতীয় সুতোতে শুল্ক বসানোর ভাবনা শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত জুয়া। প্রশ্ন হলো—এই ঝুঁকির খেলায় লাভবান হবে কে, আর ক্ষতির বোঝা বইবে কে?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপি নেতাদের কক্সবাজার সফর: নেপথ্যে বোয়িং চুক্তিতে ২৫% কমি

1

ইউনূস গংয়ের জঙ্গি কার্যক্রমের খেসারত দিচ্ছে প্রবাসীরা

2

বাংলাদেশে চলছে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ, ডাকাতি ও মবের রাজত্ব

3

অপকর্ম ঢাকতেই বিবিসি অস্ত্র ব্যবহার করলেন ইউনূস!

4

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

5

সহিংসতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের জন্য ইউনূস সরকারকে দায়ী করলেন

6

‘জয় বাংলা’ বলায় মনোনয়ন স্থগিত: বিএনপির পদক্ষেপে প্রশ্ন, মুক

7

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০ মাসে আইপিওশূন্য পুঁজিবাজার

8

আবু ত্বহা স্ত্রীকে রেখে পরকীয়ায় জড়িত? নতুন পোস্টে চাঞ্চল্যকর

9

বিতর্কিত রাকসু নির্বাচন: মাসুদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাল

10

মার্কিন সেনাদের উপস্থিতির পর মাজারে বেড়েছে হামলা

11

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার হলে প্রভাব পড়বে ভারতেও: শেখ হাস

12

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকট: কণ্ঠরোধ, স্বাধীনতা হরণ, সর্বত্র

13

নোয়াখালীতে তাজা কার্তুজসহ যুবদল নেতা গ্রেফতার

14

ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশজুড়ে মবের ছড়াছড়ি

15

ঢাকার স্কুলে বিমান বিধ্বস্ত: শেখ হাসিনার শোক ও সহযোগিতার আহ

16

ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের শিশু এখন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

17

৬০০ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন জুলাই আহতদের ‘আবাসিক হোটেল’

18

হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল: ইউনূস সরকারের অব্যবস্থাপনা দায়ি বলে

19

বাঁধনকে ঘিরে বিতর্ক: প্রতিবাদের ভাষা, রাজনৈতিক ক্ষোভ ও নীরবত

20