ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ডেকে নিয়ে জিম্মি, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইসমাইলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ইসমাইল শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী কিশোরী দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় রাজু ও শাওন নামে আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় দুই বছর আগে ফয়সাল নামে এক যুবকের সঙ্গে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। দাম্পত্য কলহের কারণে কিছুদিন ধরে তারা আলাদা থাকছিলেন।
প্রায় এক মাস আগে ইসমাইলের সঙ্গে কিশোরীর পরিচয় হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বামীর সঙ্গে বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে কিশোরীকে একটি ক্লাবের সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে ক্লাব বন্ধ দেখে তিনি ফোন করলে মামলার আরেক আসামি রাজু তাকে কাছের একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘরে প্রবেশের পর কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। প্রথমে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। তিনি রাজি না হলে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
পরে এসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে ইসমাইল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রধান আসামি ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মামলার অন্য দুই আসামি রাজু ও শাওন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন