Insight Desk
প্রকাশ : Sep 7, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার হলে প্রভাব পড়বে ভারতেও: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদী শক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর মতে, দেশের ভেতরে উগ্রপন্থী শক্তি সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেলে তার প্রভাব কেবল বাংলাদেশের নিরাপত্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রতিবেশী ভারতও এর ঝুঁকির বাইরে থাকবে না।

সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে যদি জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে তার নিরাপত্তাগত অভিঘাত সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত, মানুষের চলাচল, অর্থনৈতিক যোগাযোগ এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে এক দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অন্য দেশের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উগ্রবাদী তৎপরতা বাড়লে তা আন্তঃদেশীয় অপরাধ, চোরাচালান, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক এবং সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের নিরাপত্তার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে বাংলাদেশে যদি মৌলবাদী ও জঙ্গিবাদী শক্তি বিস্তার লাভ করে, তাহলে এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত মূল্য ভারতকেও দিতে হতে পারে।

তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও উঠে আসে। শেখ হাসিনার মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক বা অর্থনৈতিক নয়; আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং উগ্রবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রেও দুই দেশের স্বার্থ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দীর্ঘায়িত হলে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে পারে। আর একবার এমন শক্তি প্রভাব বিস্তার শুরু করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শেখ হাসিনার এই বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর সক্রিয়তা নিয়ে দেশে-বিদেশে আলোচনা চলছে।

তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিস্তারকে শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক বাস্তবতায় এর প্রভাব প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপরও পড়তে পারে, বিশেষ করে ভারতের ওপর।
এই কারণেই উগ্রবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ও সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন শেখ হাসিনা।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভোটে পুনর্গণনার দাবি এনসিপির

1

চাঁদাবাজদের গডফাদার নাহিদের রয়েছে জঙ্গি কানেকশন

2

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মহাদুর্নীতি: পদোন্নতির না

3

ভোলার লালমোহন উপজেলায় যুবদলের নেতার ছেলে হলেন ছাত্রলীগের সাধ

4

গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় আমেরিকা

5

ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন ব্রিগেডিয়ার, গন্তব্য আরাকান

6

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে ফ্যাসিস্ট ইউনূসের গোমর ফাঁস

7

ধানমন্ডি ৩২-এ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে ঢাবি অধ্যাপক আটক পুলিশের আ

8

অপকর্ম ফাঁস হওয়ার ভয়ে সারজিসের তৈলাক্ত স্ট্যাটাস

9

পহেলা বৈশাখে দেশবাসীকে শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা

10

তবে কি আরেক পিলখানা হত্যাযজ্ঞ দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ?

11

ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের আস্ফালন

12

হরতালে সড়কে যানবাহন কম, জনগণের মৌন সমর্থন

13

ভয় দেখিয়ে ৫ আগস্ট ‘গণজোয়ার’ সৃষ্টির অপচেষ্টা

14

রামিসার রক্তে ক্ষুব্ধ দেশ, দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন মাশরাফ

15

দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা: জামায়াত-শিবিরের প্রত্যক্ষ রাজনীতিত

16

প্রতিমন্ত্রীকে বহনকারী গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধা ফিরোজা

17

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: নিছক দুর্ঘটনা না কি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত

18

আইন–শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ: আগুন–ভাঙচুর, গণহিংসা ও ধর্মীয় স

19

ইউনূসের থাবায় ধ্বংসের পথে বাংলাদেশ

20