নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুরবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা কাঠামোকে ভেঙে দিচ্ছেন—যার সর্বশেষ প্রমাণ এই পরীক্ষার ফলাফল।
এ বছর ৬ লাখ ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে, যা বিগত দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৭১৬ জন ছাত্র এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৪ জন ছাত্রী। পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৬৮.৪৫ শতাংশে, যেখানে গত বছর ছিল ৮৩.৩ শতাংশ।
ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ৯টি সাধারণ বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ফলাফলের এই বেহাল দশা।
শিক্ষা নয়, আন্দোলনই ছিল ইউনূস সরকারের এজেন্ডা
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের ছত্রছায়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগঠিত আন্দোলন, অস্থিরতা এবং শিক্ষকদের উপর হামলার মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
যুবসমাজকে শিক্ষার পথ থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার একটি স্পষ্ট নীলনকশা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। “লেখাপড়া রেখে সবাই আন্দোলনে নেমে পড়ে, কারণ তাতে প্রশ্রয় দিয়েছেন ইউনূস ও তার মিত্ররা,” মন্তব্য করেন এক অভিভাবক।
শিক্ষকদের উপর নির্মম নির্যাতন: ৬ জনের মৃত্যু, শতাধিক আহত
প্রতিষ্ঠান থেকে জোর করে শিক্ষকদের পদত্যাগ করানো, হামলা চালানো, দড়ি দিয়ে বেঁধে অপমান করা—এসব ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, ৫০০ জনের বেশি আহত, এবং অনেকে আছেন জেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনূস সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষকদের মর্যাদা ধ্বংস করা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে নিজেদের অনুগত প্রশাসক বসানো।
“জুলাই যোদ্ধারা পাশ না করলে দায় কাকে?”
পরীক্ষার সময় বহু শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে নয়, ছিল রাজপথে। অটোপাশের জন্য আন্দোলন চালিয়ে গেছেন তারা, যার ফল—এই বিপর্যয়। এসএসসিতে পাস করেনি ৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী, আর ১৩৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাস করেনি।
শিক্ষাব্যবস্থার চরম অবনতি: বই পৌঁছায়নি, পরীক্ষা বাতিল
এ বছর শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতে পৌঁছায়নি পাঠ্যবই। প্রায় ৪১ কোটির মধ্যে মাত্র ৬ কোটি বই সময়মতো বিতরণ হয়। এছাড়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করে বাতিল ঘোষণা করায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত আরও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, "পরীক্ষা বাতিল, বই বিলম্ব, শিক্ষক অপমান—সবকিছু পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র রয়েছে, যার নেতৃত্বে আছেন ইউনূস স্বয়ং।"
একটি ভেঙে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থা: কে নেবে দায়?
সারা দেশে এখনো অনেক শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারেননি। শত শত পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছেন বেতন ও সম্মান হারিয়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকরা বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন শিক্ষা সংকট আগে দেখা যায়নি। এই অব্যবস্থার দায় একান্তভাবেই অধ্যাপক ড. ইউনূস ও তার অদক্ষ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রসূত অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে।”
মন্তব্য করুন