অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সাবেক স্বামী মাশরুর সিদ্দিকীর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর সেটি সরিয়ে নিতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) থেকে ফোন এসেছিল বলে দাবি করেছেন জাগো নিউজের সাবেক সম্পাদক মহিউদ্দিন সরকার। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে ২০১৭ সালের সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।
মহিউদ্দিন সরকার জানান, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি জাগো নিউজে কর্মরত ছিলেন। এক সন্ধ্যায় রাওয়া ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে বাঁধনের সাবেক স্বামী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাশরুর সিদ্দিকীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সময় বাঁধনের সংসার ভাঙার ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাশরুর সিদ্দিকী তখন অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করে তাকে ‘ভিলেন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, অথচ তার বক্তব্য নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করা হচ্ছে না।
বিষয়টি শোনার পর মাশরুর সিদ্দিকীর বক্তব্য প্রকাশের উদ্যোগ নেন মহিউদ্দিন সরকার। তিনি জাগো নিউজের বিনোদন বিভাগের দায়িত্বে থাকা সহকর্মীকে মাশরুরের যোগাযোগের নম্বর দেন। পরবর্তীতে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয় এবং ২০১৭ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সেটি জাগো নিউজে প্রকাশিত হয়।
মহিউদ্দিন সরকারের দাবি, সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের দিন দুপুরেই ডিজিএফআইয়ের গণমাধ্যম শাখায় কর্মরত তৎকালীন এক সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে তার কাছে ফোন আসে। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য প্রকাশের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানো হবে। কিন্তু ঘটেছিল উল্টোটা।
তিনি লিখেছেন, ফোনে তাকে সংবাদটি সরিয়ে ফেলতে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আর কোনো সংবাদ প্রকাশ না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তীতে তারা বিষয়টি নিয়ে আর কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে বাঁধনের তৎকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহিউদ্দিন সরকার। বাঁধনকে ‘প্রতিভাবান একজন নায়িকা’ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং ‘রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করেছেন’। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে বাঁধনের সক্রিয় ভূমিকা এবং পরবর্তী অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ❝উনি অবশ্য সময়টা ভালো ধরতে পেরেছেন। নিজেকে ঠিক সময়মতো বদলে নিয়েছেন। হয়ে গেছেন জুলাইযোদ্ধা।❞
তবে মাশরুর সিদ্দিকীর সাক্ষাৎকার সরানোর নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে বাঁধনের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মহিউদ্দিন সরকার তার পোস্টে তুলে ধরেননি। একইভাবে তার উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে বাঁধন কিংবা ডিজিএফআইয়ের বক্তব্যও ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রায় নয় বছর আগের একটি ঘটনা সামনে এনে সাবেক এই সম্পাদকের পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বাঁধনের সাবেক স্বামীর বক্তব্য প্রকাশের পর একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সংবাদ সরানোর নির্দেশ এসেছিল বলে তার দাবি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থার তৎকালীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
মন্তব্য করুন