নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরে আমেরিকার উচ্চপ্রোটিন গম আসাকে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে সরকার। অথচ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা—দেশের টেক্সটাইল শিল্প আজ অস্তিত্ব সংকটে।
চট্টগ্রাম বন্দরে আমেরিকা থেকে উচ্চপ্রোটিন গমের চালান আসাকে ঘিরে ঢাকঢোল পেটানো হচ্ছে। সরকার এটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা আরও নির্মম। বেশি দামে গম কিনেও ইউনুস সরকার দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে রক্ষা করতে পারছে না।
বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংক ঋণের চাপ, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং দিশাহীন নীতির কারণে একের পর এক কারখানা বন্ধের মুখে। কোটি শ্রমিকের রুটি–রুজির প্রধান খাত আজ ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে। শিল্প বাঁচানোর কোনো কার্যকর রোডম্যাপ না থাকলেও সরকার ব্যস্ত বিদেশি প্রশংসা কুড়োতে।
বাংলাদেশ বছরে যে পরিমাণ গম ব্যবহার করে, তার মাত্র ১৩ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত হয়—এটা নতুন তথ্য নয়। নতুন হলো, শিল্পভিত্তি ভেঙে পড়লেও সেই ব্যর্থতা আড়াল করতে বিদেশি শিপমেন্টকে ‘সাফল্য’ বানানোর চেষ্টা।
আমেরিকার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের গল্প শোনানো হচ্ছে। কিন্তু দেশের শ্রমিক, কারখানা, রপ্তানি আয়—সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে। বাস্তব উন্নয়ন না করে কূটনৈতিক ফটোসেশন দিয়ে অর্থনীতি ঢেকে রাখা যায় না।
শিল্প বাঁচাতে দরকার সুস্পষ্ট নীতি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, সহজ ঋণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এসব উপেক্ষা করে বিদেশি গমের ছবি তুলে দেশের অর্থনীতির ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা ব্যর্থ হবেই।
দেশের শিল্প ধ্বংসের মুখে। আর এই সংকটে ইউনুস সরকারের অগ্রাধিকার কোথায়—তা এখন আর অস্পষ্ট নয়।
মন্তব্য করুন