Insight Pulse
প্রকাশ : Apr 19, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সামরিক নির্ভরতার ফাঁদ ও ৫ আগষ্ট

নিউজ ডেস্ক 
নর্থইষ্ট নিউজে প্রকাশিত এক আলোচিত বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানো ছিল হঠাৎ কোনো ঘটনা নয় বরং ধাপে ধাপে তৈরি করা এক জটিল পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি। এতে সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং ক্ষমতার ভেতরের একটি প্রভাবশালী বলয়ের ভূমিকার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

‘সামরিক নির্ভরতার ফাঁদ’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস রূপ নেওয়ার পর রাজনৈতিক সমাধানের পথ এড়িয়ে সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হতে প্রধানমন্ত্রীকে উৎসাহিত করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও সামরিক ও গোয়েন্দা প্রভাব বাড়তে থাকে।

‘৫ আগস্ট: পতনের দিন’
৫ আগস্ট দুপুরে সেনাপ্রধানের জাতির উদ্দেশে ভাষণের ঘোষণা কার্যত ক্ষমতার পরিবর্তনের সংকেত হিসেবে দেখা হয়। উত্তরায় কারফিউ ব্যারিকেড হঠাৎ তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত ভেঙে পড়ে এবং সরকার নিয়ন্ত্রণ হারায়।

‘বিভ্রান্তির মধ্যে বিদায়’
প্রতিবেদন বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে নিরাপত্তার কথা বলে সরিয়ে নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার গন্তব্য স্পষ্ট ছিল না। কুর্মিটোলার ঘাঁটিতে পৌঁছে তিনি বুঝতে পারেন, তার ক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। পরে সামরিক বিমানে তাকে ভারতে নেওয়া হয়।

‘অভ্যন্তরীণ বলয়ের প্রভাব’
প্রতিবেদনে একটি তথাকথিত “চট্টগ্রাম সার্কেল” এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যারা প্রশাসন ও গোয়েন্দা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ওপর প্রভাব বিস্তার করছিল। এদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নামও উঠে আসে।

‘সহিংসতা ও নীরবতা’
৫ আগস্টের পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদন দাবি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অংশ ‘নির্বাচিত নীরবতা’ পালন করে, ফলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।

‘বিচার বিভাগ ও প্রশাসনে চাপ’
ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু বিচারককে পদত্যাগে বাধ্য করা, অনেকে গ্রেপ্তার বা দেশত্যাগে সহায়তা পাওয়ার মতো ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মাত্রা’
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিবেচনায় কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভারতের সহায়তায় শেখ হাসিনার নিরাপদ স্থানান্তরের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

‘বিতর্ক ও প্রশ্ন’
তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট সামরিক, রাজনৈতিক বা সরকারি পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও এতে উল্লেখ নেই। তবে,নর্থইষ্ট নিউজের এই বিশ্লেষণ নতুন করে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে  নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। প্রশ্ন রয়ে গেছে, এটি কি কেবল পরিস্থিতির স্বাভাবিক পরিণতি, নাকি পরিকল্পিত ক্ষমতার রদবদল?

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তারেক-ইউনূস বৈঠকের পর বিএনপিতে বেড়েছে মব সন্ত্রাস

1

সহিংসতায় ছায়াচ্ছন্ন নির্বাচন

2

আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দেখে নতুন ষড়যন্ত্রে দেশবিরোধীরা

3

ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগে ঘেরা শিবিরপন্থি সাব্বির রাকসুর এজিএস

4

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি: রাজনীতিতে নতুন বিতর

5

শেখ হাসিনার কড়া সতর্কবার্তা: অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন ছাড়া

6

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট বিতর্ক আদালতে চ্যালেঞ্জ

7

ইউনূসের হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকির খবর গায়েব

8

আইসিটির দেওয়া রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি

9

ইউনূস-লামিয়া মোর্শেদ সিন্ডিকেটে ধ্বংসের মুখে দেশের শ্রম বাজা

10

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার পথে বাঙালির অঙ্গীকার

11

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনূসকেও পাত্তা দিল না আমেরিকা

12

অনিশ্চয়তায় দুলছে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট, নির্বাচনের আগে রাজনীতিত

13

মবকে বৈধতা দিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

14

‘প্রোটোকল দিয়ে আমাকে বনবাসে দিয়ে গেল’: শেখ হাসিনা

15

জঙ্গি নিয়ে ইউনূসের পুলিশবাহিনীর মিথ্যাচার ফাঁস করল মালয়েশিয়া

16

আদর্শের বদলে আসনের রাজনীতি: এনসিপির ক্ষমতা দখলের অক্ষমতা উন্

17

প্রতি মিনিটে ১২ ভোট? ইসির পরিসংখ্যান ঘিরে প্রশ্ন

18

শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারকে টার্গেট করে রাজনৈতিক সার্কাস দেখা

19

রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর অপসারণ চেষ্টা, আন্দোলনকারীদের

20