Insight Desk
প্রকাশ : Sep 17, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নিষেধাজ্ঞা, মামলা-গ্রেপ্তারের মধ্যেও ফের রাজপথে ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল

নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও গ্রেপ্তারের মতো আইনগত চাপের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও বিক্ষোভ মিছিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজারে সংগঠনটির ব্যানারে মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। 

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বর্ডার বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগের ১৫ থেকে ২০ জন নেতাকর্মী একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন। প্রকাশিত ভিডিওতে তাদের ‘জয় বাংলা’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ এবং সংগঠনের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিলটির নেতৃত্বে ছিলেন লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জায়েদ ইবনে মিরাজ। 

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের সাত নেতার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিবাদে ওই মিছিল করা হয়। একই দিনে কক্সবাজার শহরেও ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিবাদে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। সেখানে শেখ হাসিনার পক্ষে এবং রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। 

এর আগের রাতেও ফেনীতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া যায়। ওই কর্মসূচির পর অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

এর আগেও ছাত্রলীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে সিলেট নগরে একটি ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। 

ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা এসব কর্মসূচিকে তাদের রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরছেন। বিভিন্ন মিছিলে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, দলীয় নেতাদের মুক্তি এবং ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রতিবাদসংক্রান্ত স্লোগানও সামনে আসছে। তবে এসব কর্মসূচি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সংগঠনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারার ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সরকারি গেজেটে সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের কথা বলা হয়েছিল। 

ফলে বর্তমানে ছাত্রলীগের প্রকাশ্য কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি আইনগত প্রশ্নও রয়েছে। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক কয়েকটি মিছিল দেখাচ্ছে, সংগঠনটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ এখনো বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে পুলিশও কিছু ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেষ সময়ে হরিলুট চালাচ্ছে ইউনূস বাহিনী

1

জামায়াতের নারী-বিদ্বেষ বিতর্কে ফের ‘হ্যাক’ নাটক

2

লক্ষ্মীপুরের বিএনপির সন্ত্রাসীর হাতে জোড়া খুন

3

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ

4

যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি: বছরে ১,৩২৭ কোটি টাকা শুল

5

জামায়াত নেতাকে নিয়ে সটকে পড়লেন স্বার্থপর ইউনূস, বিপাকে এনসিপ

6

জুলাই সনদে সই করবে না গণফোরাম ও বামপন্থি চার দল

7

কোভিডে স্বচ্ছতা, হামে নীরবতা

8

সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে গুজব নিয়ে হাজির প্রেস সচিব

9

ট্রাম্পের বার্তায় কূটনৈতিক শুভেচ্ছা নাকি চাপের ইঙ্গিত?

10

গোপালগঞ্জের এনসিপি সমাবেশে বহিষ্কৃত এএসআই রঞ্জু, ছিলেন ফায়ার

11

চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে: জাতীয় স্ব

12

বিপদে পড়লেই আওয়ামী লীগের কথা মনে পড়ে ইউনূসের

13

জঙ্গি নিয়ে ইউনূসের পুলিশবাহিনীর মিথ্যাচার ফাঁস করল মালয়েশিয়া

14

ইউনূসের ফাঁদে পা দিল বিএনপি

15

জঙ্গিবাদের ভয়াল থাবা, এবার বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ করল আরব আমি

16

সেনাবাহিনীকে ঘিরে ষড়যন্ত্র, পাহাড়ে অশান্তির পেছনে জামায়াত-শি

17

ডাকরা গণহত্যা: মুক্তিযুদ্ধের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়

18

চাঁদপুরে ঢাকাগামী শিক্ষকবাহী লঞ্চ আটকে দিল পুলিশ, আন্দোলন অব

19

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত

20