Insight Desk
প্রকাশ : Feb 18, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ল? ইউনূস সরকারের সময়কালে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, তাঁর লক্ষ্য দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর সময়কার অর্থনৈতিক চিত্র নিয়ে ভিন্নমত সামনে এসেছে।
নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র?

অর্থনীতিবিদদের একাংশ বিশ্বব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে বলছেন, তাঁর শাসনামলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছে। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা রয়েছে।

বিনিয়োগে নজিরবিহীন পতন

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ জিডিপির ২৪ শতাংশ থেকে কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে বলে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এক বছরে প্রায় দেড় শতাংশ পয়েন্ট পতন চার দশকের মধ্যে বিরল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে, একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগের প্রধান সূচক এডিপি বাস্তবায়নও গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ বলছে, একই সময়ে সরকারি বিনিয়োগের প্রধান সূচক এডিপি বাস্তবায়নও গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।

ব্যাংক খাতে চাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উদ্বেগজনক। উচ্চ সুদের হার ও ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যবসায় আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে।

রিজার্ভ বৃদ্ধির দাবি

ড. ইউনূস তাঁর বিদায়ী বক্তব্যে জানান, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। সরকারের মতে, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত।

তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, আমদানি সংকোচন ও উচ্চ সুদের নীতির প্রভাবে বিনিয়োগ ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা

দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সমালোচকদের দাবি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন ছাড়া অধিকাংশ সংস্কার বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। দুর্নীতি, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি বলে তাদের মত।

‘তিন শূন্য’ কতদূর?

বিশ্বব্যাপী ‘তিন শূন্য’ দর্শনের প্রবক্তা হিসেবে পরিচিত ড. ইউনূসের সময়কালে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে কি না, তা নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।

অর্থনীতির সূচকগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট—তাঁর সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে জনপরিসরে প্রশ্ন ও আলোচনা এখনো থামেনি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ: স্বাধীনতার পথে বাঙালির অঙ্গীকার

1

নৌকা ছেড়ে শীষে—সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজনের অবস্থান বদলে ময়মনসি

2

সরকার বদলায়, বিএনপির সেলু মাষ্টারের ‘সিস্টেম’ বদলায় না!

3

কঠিন মুহুর্তে আবারও বাংলাদেশের পাশে ভারত

4

প্রয়াণে শূন্যতা, স্মৃতিতে অনন্ত প্রেরণা, গভীর শ্রদ্ধায় স্ম

5

মার্কিন চুক্তি নিয়ে নতুন বিতর্ক: এলপিজি আমদানিতে বছরে ১৮ হাজ

6

দেশের মাটিতে ফিরেও স্বস্তিতে নেই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা

7

গুলশানে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ, রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

8

শেখ হাসিনার সাহসী পদক্ষেপ, রূপপুরে ৬০ বছরের শক্তির মহাযাত্রা

9

মবের ওপর ভর করে টিকে আছে ইউনূস বাহিনী

10

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

11

ইউনুস সরকারের অস্ত্র চুক্তি বিতর্কে খলিলুরের দায় এড়ানো মন্তব

12

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশি অস্ত্রের জোগান আসছে কোথা থেকে ও কিভ

13

ফেসবুক পোস্টে গ্রেফতার বাড়ছে, মতপ্রকাশে শঙ্কা

14

ডাকরা গণহত্যা: মুক্তিযুদ্ধের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়

15

তারাকান্দায় প্রবাসীর উদ্যোগে সড়ক মেরামতে স্বস্তি অটোচালক ও এ

16

প্রবাসীদের ভয়ে কাঁপছে জামায়াত-বিএনপি নেতা ইউনূস, দলবল নিয়ে য

17

পিআইবি ভবনেই ছিল বাকশালের দপ্তর—ফারুক ওয়াসিফের দাবির ঐতিহাসি

18

জাতিসংঘের মিশন চালুর সিদ্ধান্ত থেকে দৃষ্টি সরাতেই উত্তরায় বি

19

সাংবাদিকদের সঙ্গে অভদ্র আচরণে সমালোচনার মুখে ডাকসু নেত্রী রা

20