২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় ও পরবর্তী সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন থানা, পুলিশ ফাঁড়ি, পুলিশ বক্স ও অন্যান্য পুলিশ স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গুলি লুট হয়েছিল। সর্বশেষ ২৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪৫২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৮৩টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো ১ হাজার ৩১১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ১২৫টি গুলি বেহাত রয়েছে।
বেহাত অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে ১০৯টি চায়না রাইফেল, একটি বিডি রাইফেল, ৩০টি চায়না সাবমেশিনগান, তিনটি চায়না লাইট মেশিনগান, ২০৩টি চায়না টি-৫৪ পিস্তল, ৪৪৪টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ৩৮৪টি ১২ বোরের শটগান। এছাড়া ১২৮টি গ্যাস গান, সাতটি টিয়ার গ্যাস লঞ্চার এবং দুটি সিগন্যাল পিস্তলও এখনো উদ্ধার হয়নি।
লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার হলেও পুরো অস্ত্রভাণ্ডার এখনো রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে ফেরেনি।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, লুট হওয়া কিছু অস্ত্র পরবর্তী সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, বেহাত অস্ত্রের কিছু অংশ ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন সহিংস অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে।
দুই বছর পরও এক হাজারের বেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি গুলি কোথায় এবং কার হাতে রয়েছে, সেটিই এখন বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারও লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা বাড়িয়েছে। ৩০ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এসব অস্ত্র উদ্ধারে সহায়ক তথ্যের জন্য নগদ পুরস্কার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন