Insight Desk
প্রকাশ : Aug 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কিভাবে ত্বরান্বিত হলো?

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অধ্যাপক ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি প্রকাশিত এক মতামতমূলক নিবন্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দেশের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। নিবন্ধটিতে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক অভিমত প্রকাশ করেছেন।

লেখকের মতে, শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশের ভেতরে এবং বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং সংগঠনের পুনর্গঠনের বিষয়ে নতুন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

নিবন্ধে ড. মোমেন আরও দাবি করেন, শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পুনরুত্থান ঠেকানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে। তবে এসব মূল্যায়ন লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে লেখক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, অর্থনীতি এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা, দুর্নীতি, মব সহিংসতা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

নিবন্ধে তিনি আরও দাবি করেন যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার কারণে জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও সমালোচনা করেন।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় ড. মোমেন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দেশের অবস্থা দুর্বল হয়েছে বলে তাঁর মূল্যায়ন। তিনি মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের সংকোচনের মতো বিষয়গুলোকে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এসব কারণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করেছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও লেখক উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, দেশে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন ঘটনায় জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কার্যকর আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ছাড়া দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

নিবন্ধের শেষাংশে ড. মোমেন রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও মত দেন যে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মামলা এবং দ্বন্দ্বের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা উচিত। তাঁর মতে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমঝোতা ও আইনের সমান প্রয়োগ প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সামরিক নির্ভরতার ফাঁদ ও ৫ আগষ্ট

1

ক্লাস্টার মিসাইল: যুদ্ধের কৌশল, মানবিক বিপর্যয় ও বৈশ্বিক রা

2

বিশ্ব খেলোয়াড়ের কারিশমায় বিপাকে প্রবাসীরা, হুমকির মুখে দেশের

3

অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ স্থগিতের খবর সঠিক নয় : জাতীয় বিশ্ববি

4

সহিংসতায় ছায়াচ্ছন্ন নির্বাচন

5

ফেসবুক পোস্টে গ্রেফতার বাড়ছে, মতপ্রকাশে শঙ্কা

6

ভাড়া করে লোক দিয়ে জুলাই উদযাপন করবে সরকার, উঠছে সমালোচনার ঝড়

7

পুলিশ নয় আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিবির!

8

চরফ্যাশনে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা,

9

নীলখেতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সিলসহ দেড় কোটি পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর

10

ভিত্তিহীন অভিযোগে হয়রানি: ইউনূস ও দুদকের বিরুদ্ধে টিউলিপের

11

চোট থেকে ফেরার পথে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী

12

গ্যাঁড়াকলে ইউনূস, পলাতে চাইলেও মিলছে না অনুমতি

13

৪০ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রশ্নবিদ্

14

৭৫ থেকে ২৪ একই সূত্রে গাঁথা

15

জাতিসংঘের মিশন চালুর সিদ্ধান্ত থেকে দৃষ্টি সরাতেই উত্তরায় বি

16

সত্য বলার লাইসেন্স কি এখন শুধু প্রেস সচিবের হাতে?

17

তবে কি সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশ

18

নির্বাচনের সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে: জানুয়ারিতেই নিহত ১১

19

জনমনে প্রশ্ন সেনাবাহিনী কি এখন এনসিপির পাহারাদার বাহিনী

20