নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাজনীতি ও জনসেবার অঙ্গনের এক সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা, সাবেক সফল কাউন্সিলর (কমিশনার) এবং আশি-নব্বই দশকের ছাত্র রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ মামুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর এই প্রয়াণ দিবসে পরিবার, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছে।
আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ মামুন ছিলেন এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার এবং দলীয় রাজনীতির প্রতিটি স্তরে সততা, নিষ্ঠা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, মানুষের সেবা। এই আদর্শকে ধারণ করেই তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ওমর গনি এম.ই.এস. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের জেনারেল সেক্রেটারি (জি.এস.) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আশি ও নব্বই দশকের ছাত্র রাজনীতিতে একজন সাহসী, কর্মীবান্ধব ও সংগঠক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর নেতৃত্বে অসংখ্য তরুণ রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন এবং অনেকেই পরবর্তীকালে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ছাত্র রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। দলীয় সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম কিংবা সাংগঠনিক কার্যক্রম সবক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠক। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন আন্তরিক, কর্মীদের কাছে ছিলেন অভিভাবকতুল্য এবং সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন সহজে কাছে পাওয়া একজন জনপ্রতিনিধি।
জনসেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে তিনি সর্বস্তরের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও তিনি ছিলেন একজন মানবিক, উদার ও পরোপকারী মানুষ। ব্যক্তিগত জীবনে অসংখ্য অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নীরবে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা, তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতার জন্য তিনি আজও অনেকের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয়।
তাঁর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর সহকর্মী, অনুসারী ও শুভানুধ্যায়ীরা স্মৃতিচারণ করে তাঁর কর্মময় জীবন, নেতৃত্বগুণ, সততা এবং জনসেবার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন। অনেকেই মনে করেন, তাঁর মতো জনসম্পৃক্ত, ত্যাগী ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব বর্তমান সময়েও সমাজ ও রাজনীতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। তারা মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে প্রার্থনা করেছেন তিনি যেন আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ মামুনকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন, তাঁর সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক বহন করার শক্তি দান করেন।
মানুষের ভালোবাসা, সততা, ত্যাগ ও জনসেবায় নিবেদিত একটি কর্মময় জীবন কখনও হারিয়ে যায় না। আলহাজ্ব মামুনুর রশীদ মামুন তাঁর কর্ম, আদর্শ এবং মানুষের হৃদয়ে রেখে যাওয়া স্মৃতির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকবেন।
মন্তব্য করুন