Insight Desk
প্রকাশ : Jul 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

“আস্তে আস্তে না মাইরা, একবারেই মাইরা ফালাও!”

একজন সত্তরোর্ধ্ব দাদার শেষ আর্তনাদ এটা। এরপর সেই বৃদ্ধের বুকেই বসে গেছে ঘুষি। গফরগাঁওয়ের নবী হোসেনের অপরাধ একটাই, বিএনপি নেতা-কর্মীদের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার নাতিকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন। আজ তিনি লাশ, আর হত্যাকারীর নাম শামছুল ইসলাম ফারুক, বিএনপির রাজনীতির নবীনতম ফসল।

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর কেটেছে মাত্র পাঁচ মাস ষোলো দিন। এই সংক্ষিপ্ত সময়েই কী দেখল বাংলাদেশ? চুরির অভিযোগে এক যুবককে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধরে এনে বিএনপি নেতার কার্যালয়ের সামনে বেঁধে রাখা হলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা। বসানো হলো দলের পতাকা মোড়ানো সালিশ। রাতের অন্ধকারে মারধর, নাতিকে বাঁচাতে গেলে বৃদ্ধ দাদাকে পথের ওপর ফেলে বুকে চাপাতি। এটা কোনো চায়ের দোকান গরম করার গল্প না, ঘটনাস্থলের প্রতিটি শব্দ পাগলা থানার ওসির বরাতেই জানা গেছে।

শামছুল ইসলাম ফারুক। বছরখানেক আগেও বহিষ্কৃত ছিল। জাতীয় নির্বাচনের আগে তাড়াহুড়ো করে বহিষ্কার প্রত্যাহার করা হয়, উস্থি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীও সাজানো হয়ে যায়। দলের জন্য বিব্রতকর অতীত তো দূরের কথা, অপরাধের ইতিহাসই যেন যোগ্যতা হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার দৌড়ে। ক্ষমতার লোভে বিএনপি চোখ বন্ধ করে আপন করে নিলো এমন একজনকে যার বুক পকেটে জনগণের জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কিছু জমা নেই।

খালি চোখে দেখতে গেলে পুরো চিত্রটা আরও ভয়ংকর। এলাকাবাসী বলছে, এক মাস আগে চুরি যাওয়া ফোনের ঘটনায় রানা নামের ওই যুবকের নাম জড়িয়েছিল একমাত্র “সন্দেহ” হিসেবে। কোনো প্রমাণ না, থানায় অভিযোগও দায়ের হয়নি কখনো। তবু আইন হাতে তুলে নিতে দ্বিধা করলো না বিএনপির মদদপুষ্ট চক্র। এখন রাতের আঁধারে এই বর্বরতা বৈধতা পায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে।

থানার ওসির বক্তব্য শুনলে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়। “অভিযানে গিয়েছিলাম, কিন্তু সবাই পালিয়েছে।” পাঁচ মাসে পুরো পুলিশ মেশিনারির গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগেনি যে অন্তত একজনকেও ধরতে পারে? নাকি বিএনপি নেতা বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকাই এখন প্রশাসনের একমাত্র নীতি? ২০০১ সালের অক্টোবরেও পুলিশের ঠিক এমন ভাষ্যই শুনেছিল দেশ। ফারাক শুধু তখন হাওয়া ভবন ছিল, এখন হয়তো পাল্টে গেছে ঠিকানা, কায়দা বদলায়নি বিন্দুমাত্র।

আর জামাতে ইসলাম? পাগলা থানায় এদের সরাসরি উপস্থিতি নথিবদ্ধ নয় ঠিকই, কিন্তু জামাত বিএনপির জোটসঙ্গী। ২০০১-০৬ মেয়াদে সারা দেশে যে ক্যাডার-কালচার আর সালিশি-বিচার মডেল চালু হয়েছিল, তার নীলনকশা অনেকটাই জামাতের মগজ থেকে বেরোনো। ২০২৬-এ সেই জোটই আজ ক্ষমতার অংশীদার। গফরগাঁওয়ের রক্তমাখা সড়ক তাই নিছক কোনো স্থানীয় গণ্ডগোল না, বরং পুরো জোট সরকারের অপরাধ-দর্শনের অগ্রিম বিজ্ঞপ্তি।

অথচ প্রশ্ন যেটা জ্বলজ্বল করছে সেটা আরও মৌলিক। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের মানুষ বুকের রক্ত দিয়েছিল একটা সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্য, যেখানে কোনো দলীয় ক্যাডাররা রাতের আঁধারে আর কারও দাদাকে হত্যা করতে পারবে না। সেই স্বপ্ন কি বিএনপি মাত্র পাঁচ মাসেই গলাটিপে হত্যা করলো? যেখানে একদল লোক “বিএনপি নেতা”র দাপটে ঘুমন্ত গ্রামে তাণ্ডব চালাতে পারে, সেখানে রাষ্ট্র বলতে কিছু অবশিষ্ট আছে কি না সেই প্রশ্ন জেগে থাকবে নবী হোসেনের লাশের পাশে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন

1

জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ এখনো জীবিত, তবে অবস্থা ক্রিটিক্যাল

2

ড. ইউনূস সম্পর্কে বিখ্যাত লেখক আহমদ ছফার সতর্কবার্তা

3

স্ট্যাটমেন্টে গোঁজামিল দিয়ে জাতিকে বোকা বানানোর চেষ্টায় মাহফ

4

বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বন্ধ করল ভারত, কার্যকর হলো

5

তবে কি সেনাবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দেশ

6

সেনাবাহিনীর গাড়ি করে গোপালগঞ্জ থেকে পালাল এনসিপির নেতারা

7

তারাকান্দা থানায় মামলা বাণিজ্যের মহোৎসব, স্থানীয় আওয়ামী লীগ

8

নসিপি ও বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ নয় নারী নেত্রীরা

9

সিলেট জেলে বন্দিদের নির্যাতন ও প্রশাসনিক অমানবিকতা, নেতৃত্ব

10

আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনূসকেও পাত্তা দিল না আমেরিকা

11

রায়পুরে বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে রাইফেল উদ্ধার: নাশকতার প্রস্ত

12

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা: আওয়ামী লীগ নিধন ও নির্বাচন লুটের

13

সরকারের ব্যর্থতা ঢাকতে গুজব নিয়ে হাজির প্রেস সচিব

14

দেশের সব বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি: নিরাপত্তাহীনতা ও

15

৯ম পে-স্কেল দাবিতে আন্দোলন, পুলিশের দমন নীতির তীব্র নিন্দা

16

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের কুরবানির পশু ঘিরে আলোচনা, সামনে এলো

17

কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের মুক্তি ও রমজানকে ঘিরে মানবিক কর্মসূচ

18

জাতিসংঘের মানবাধিকার মিশন চালুতে ইউনূস সরকারের চুক্তি, দেশবা

19

ধানের শীষের মনোনয়ন না পেলে, স্বতন্ত্র পার্থী হিসেবে নির্বাচন

20