নিজস্ব প্রতিবেদক
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের ওপর জঙ্গিবাদের তকমা আরোপ করছে উন্নত দেশগুলো। এর ফলে দেশটির নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হার বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৩ শতাধিক জঙ্গি জামিনে মুক্ত। তাদের মধ্যে কেউ সন্দেহভাজন, কেউ বিচারাধীন, এমনকি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তও রয়েছেন। ধর্মের নামে অপপ্রচার, জঙ্গি সংগঠনের পুনরুত্থান এবং প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জঙ্গিবাদ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নীতিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পাঁচই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকে একের পর এক জঙ্গি মামলার আসামি জামিনে মুক্ত হচ্ছেন।
ভিসা প্রত্যাখানের কারণ
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, ভিসা প্রত্যাখানের পেছনে কয়েকটি বিষয় সরাসরি ভূমিকা রাখছে:- ১) রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি। ২) সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি। ৩) উচ্চ যুব বেকারত্ব, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে ৪২%। ৪) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন প্রবণতা। এই ৪টি প্রধান কারণে উন্নত দেশগুলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ভিসা নীতি কঠোর করছে।
পরিসংখ্যান ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ
২০২৪ সালে শেনজেন অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশিদের জমা পড়া ৩৯,৩৪৫ ভিসা আবেদনের মধ্যে ২০,৯৫৭টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, যা প্রায় ৫৪.৯%। ভিয়েতনাম, লাওস, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও মিশর, মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া ইতোমধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম বন্ধ বা কঠোর করেছে। ভারত এখন সীমিতভাবে চিকিৎসা ও শিক্ষা ভিসা দিচ্ছে।
ভিসা প্রত্যাখানের অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশি ভ্রমণবিষয়ক ইউটিউবার নাদির নিবরাস জানান, বৈধ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ভিসা থাকলেও তিনি তাজিকিস্তানের সাধারণ ই-ভিসা পাননি। আবেদন প্রত্যাখ্যানের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, এমনকি ফিও ফেরত দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘ প্রস্তুতির পরেও মাত্র কয়েক মিনিটে তার ভিসা আবেদন বাতিল করা হয়। একই দিনে উপস্থিত আরও অন্তত ১০-১২ জন শিক্ষার্থীও ভিসা পাননি।
চীন থেকে পণ্য আমদানি করা এক ব্যবসায়ী জানান, গত তিন বছরে অন্তত ছয়বার চীন সফর করলেও এবার জুন মাসে তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে— ভিসা প্রত্যাখানের এই ধারা রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। বিদেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন, যা শিক্ষা খাতে প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন