Insight Desk
প্রকাশ : Jul 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে মাদ্রাসায় শিশু যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বেগ: বিচারে গতি আসলেও বাড়ছে অপরাধের অভিযোগ,

​বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে মাদ্রাসায় ছেলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের সাম্প্রতিক কিছু হৃদয়বিদারক ঘটনার পর। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের শতাধিক অভিযোগ উঠেছে, যার অধিকাংশেই মামলা বর্তমানে বিচারধীন।

​অভিযোগের পাহাড় জমলেও সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে আদালতের কঠোর অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এমন তিনটি আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় নিচে তুলে ধরা হলো:

​১. ছাত্র ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক ইসমাইলের মৃত্যুদণ্ড

​চট্টগ্রামের দারুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক মো. ইসমাইলকে (৪৬) ১২ বছরের এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

​রায়ের তারিখ: ১৩ অক্টোবর, ২০২৫

​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫, চট্টগ্রাম।

​২. লোহাগাড়ায় মাদ্রাসা শিক্ষকের যাবজ্জীবন

​চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক কোমলমতি ছাত্রকে যৌন নির্যাতনের দায়ে রিয়াদ উদ্দিন (২৩) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

​রায়ের তারিখ: ২৭ আগস্ট, ২০২৫

​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, চট্টগ্রাম।

​৩. ১০ বছরের ছাত্রকে নির্যাতনের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

​চট্টগ্রামে ১০ বছরের এক শিশু ছাত্রকে বলৎকারের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক মো. আবদুল মজিদকে (২৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

​রায়ের তারিখ: ২৮ অক্টোবর, ২০২৫

​আদালত: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭, চট্টগ্রাম।

​নীতি-নৈতিকতা বনাম বাস্তবতা

​ইসলাম ধর্মীয় অনুশাসনে সমকামিতা ও যেকোনো ধরনের ব্যভিচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় সমাজ বিশ্লেষক ও অভিভাবকদের মনে গভীর ক্ষোভ ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের সঠিক তদারকির অভাব, শিক্ষকদের অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা এবং সামাজিক লজ্জার ভয়ে অধিকাংশ ঘটনা চেপে যাওয়ার সুযোগে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও আদালতের কঠোর সিদ্ধান্তের কারণে আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হচ্ছে।

​কোমলমতি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় কঠোর সিসিটিভি নজরদারি, শিক্ষকদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং শিশু সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন নাগরিক সমাজ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নসিপি ও বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ নয় নারী নেত্রীরা

1

শিল্প ডুবছে, ইউনুস ব্যস্ত আমেরিকা তুষ্টিতে

2

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ

3

খাটের ওপর পড়ে ছিল ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রীর মরদেহ

4

জুলাই সনদে বড় গলদ কমেছে ১১ লাখ ভোট

5

স্বাধীন বাংলাদেশে আবারো 'রাজাকার' স্লোগান, জামায়াত-এনসিপির

6

তারাকান্দা থানায় মামলা বাণিজ্যের মহোৎসব, স্থানীয় আওয়ামী লীগ

7

বিটকয়েন সম্পদ— যাদের নাম জড়ালো বিতর্কে

8

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার নেপথ্যে কী?

9

চাঁদা না দিলে আদালত পাড়ায় মব করে বিএনপি

10

আবু ত্বহা স্ত্রীকে রেখে পরকীয়ায় জড়িত? নতুন পোস্টে চাঞ্চল্যকর

11

জরিপ: ভোট দিতে যাবেন না ৮৭ ভাগ আওয়ামী লীগ সমর্থক, ৯২ ভাগের স

12

স্থানীয় ষড়যন্ত্র ও গোপন মার্কিন অভিযানের ফল ৫ আগস্ট

13

জুলাই আন্দোলন: সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয় জামায়াত

14

হুমকিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, পাকিস্তানি কনফেডারেশনের নতুন ষ

15

কাশিমপুরে বন্দিদের খাবারে বিষ মেশানোর অভিযোগ, ভিন্নমত দমনের

16

দেশ ছাড়ার পরিকল্পনায় ইউনুস! সাথে থাকছেন কয়েকজন উপদেষ্টা

17

সাজানো–গোছানো কক্ষ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, মাঝপথে সমাপ্ত স্বাস

18

ইউনূসের সফরসঙ্গীতে মানবতা বিরোধী অপরাধীর সন্তান, প্রশ্নের মু

19

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

20