Insight Desk
প্রকাশ : Feb 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আইনের মাধ্যমে প্রতিশোধের রাজনীতি, তদন্তহীন বিচার, আওয়ামী লীগ পরিচয় পেলেই শাস্তি

ডেস্ক রিপোর্ট

বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় আজ একটি ভয়ংকর প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে আইন আর ন্যায়বিচারের মাধ্যম নেই, আইন হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার। মামলা হচ্ছে, কিন্তু তদন্ত হচ্ছে না।

 বিচারব্যবস্থায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে—ভুয়া মামলা, মিথ্যা মামলা, এমনকি কোনো ঘটনা ঘটেনি তবু মামলা। খুন হয়নি, অথচ খুনের মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়, প্রমাণ আছে তার নির্দোষতার, তবুও গ্রেফতার। এমনকি এমন ঘটনা ঘটেনি, কিন্তু পুলিশ ও আদালত জানে, সবাই জানে তবু ভুয়া মামলায় মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

 অভিযোগ সত্য কি মিথ্যা সে প্রশ্ন গুরুত্ব হারিয়েছে। রায় যেন আগেই নির্ধারিত, আদালত কেবল তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার মঞ্চ।

বর্তমান বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই একটি পরিচয়ই যথেষ্ট। কেউ যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হন, তাহলেই তাকে অপরাধী ধরে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তি কী, ঘটনা ঘটেছে কি না, অভিযুক্ত আদৌ সংশ্লিষ্ট কি না এসব প্রশ্ন অনাবশ্যক বলে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ আগে গ্রেপ্তার করছে, পরে অভিযোগ সাজানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও অভিযোগ খোঁজার প্রয়োজনও পড়ছে না নাম আর রাজনৈতিক পরিচয়ই যথেষ্ট প্রমাণ।

এই প্রক্রিয়ায় আদালতের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। বিচার এখন আর স্বাধীন সিদ্ধান্তের ফল নয়, বরং ক্ষমতার সিলমোহর। বিচারকের দায়িত্ব বিচার করা নয়, নির্দেশ বাস্তবায়ন করা এমন একটি ধারণা জনমনে গেঁথে যাচ্ছে। কোথা থেকে সেই নির্দেশ আসে, তা সবাই নীরবে জানে, কিন্তু প্রকাশ্যে কেউ বলতে সাহস পায় না। ফলে আইন আর সংবিধানের রক্ষাকবচ নেই, আইন হয়ে উঠেছে শাসকের হাতের লাঠি।

এ অবস্থাকে আর বিচারব্যবস্থা বলা কঠিন। এটি কার্যত একটি রাজনৈতিক বাছাই প্রক্রিয়া। 

কে কোন দলে ছিল, কে কাকে সমর্থন করেছিল, কে কোন সময়ে কী বলেছিল এই হিসাবেই মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তি নির্ধারিত হচ্ছে। সত্য বললেও শাস্তি, চুপ থাকলেও শাস্তি। নির্দোষ হওয়া এখন আর কোনো সুরক্ষা দেয় না।
প্রশ্ন হলো বিশ্বের কোন গণতান্ত্রিক দেশে তদন্ত ছাড়া মামলা টিকে? কোন সভ্য রাষ্ট্রে অভিযোগ প্রমাণ না করেই মানুষকে অপরাধী বানানো হয়? বাংলাদেশ আজ সেই অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে আইন ভয় দেখানোর অস্ত্র এবং আদালত ভয়ের প্রতীক।

সত্য-মিথ্যার পার্থক্য হারিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, এই অবস্থাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে। মানুষ এখন বলে, “মামলা মানেই শেষ”, “আদালতে গেলে আর বাঁচা নেই”। 

এই ভয়ই প্রমাণ করে রাষ্ট্র তার নৈতিক ভিত্তি কতটা হারিয়েছে। যে রাষ্ট্র আইনের নামে নাগরিকের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, সে রাষ্ট্র ভেতর থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

আজ যাদের টার্গেট করা হচ্ছে, কাল তারা বদলে যেতে পারে। কিন্তু যে নজির তৈরি হচ্ছে তদন্তহীন বিচার, পরিচয়ভিত্তিক শাস্তি, আইন দিয়ে প্রতিশোধ তা থেকেই যাবে। আর একবার যদি আইনকে এভাবে ব্যবহার করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কেউই নিরাপদ থাকে না।

এটাই আজকের বাংলাদেশের নির্মম বাস্তবতা যেখানে আইন আছে, কিন্তু ন্যায় নেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৭৫ থেকে ২৪ একই সূত্রে গাঁথা

1

ঢাকা ওয়েস্টিনে মার্কিন সেনা কর্মকর্তার রহস্যজন মৃত্যু, গোপন

2

বড় ঝুঁকির খেলায় ঢাকা: ভারতীয় সুতোতে শুল্ক বসানোর ভাবনা!

3

এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামনে

4

দলে ফিরলেন শামীম-নাঈম, ওয়ানডেতে প্রথমবার তানভির

5

চাইনিজ রাইফেল, এসএমজি ও আড়াই লাখ গুলি নিখোঁজ; আসন্ন নির্বাচন

6

গোপালগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে

7

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড দেশের গণমাধ্যম

8

জুলাই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ফাঁস, এবার অ্যামোনেশন ম্যাগজিন মিলল

9

বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি লিংকন গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রের

10

দিয়াবাড়িতে মিছিল শেষে নিখোঁজ: তুরাগ নদী থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর

11

ভোটার ছিল না ভোটকেন্দ্রে ভোট ছিল গণনার টেবিলে: শেখ হাসিনা

12

মার্কিনি চালে অশান্ত দক্ষিণ এশিয়া, পরবর্তী টার্গেট দিল্লি

13

আগস্টে আমরা পুলিশ মেরে ঝুলিয়ে রেখেছি—সিগন্যাল অমান্য করে উল্

14

সিলেটে প্রকাশ্যেই পাথর লুট করছে বিএনপি নেতারা, প্রশাসনের নীর

15

তবে কি করিডোর নিয়ে বিএনপির সমর্থন আদায় করলেন ইউনূস?

16

দেশজুড়ে বাড়ছে হত্যা-ধর্ষণ, আতঙ্কিত মানুষ

17

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাতে মহাদুর্নীতি: পদোন্নতির না

18

মুদি দোকানে এক মাসের বিদ্যুৎ বিল সাড়ে ১৩ লাখ টাকা!

19

দারিদ্র্য কমার বদলে বাড়ল? ইউনূস সরকারের সময়কালে

20