Insight Desk
প্রকাশ : Jul 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

দিল্লি না ঢাকা? : রুপাইয়া রুপাইয়া!

রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য করতে চায় তারা। রূপপুরের কিস্তির টাকা সোনালী ব্যাংকে আটকে আছে বছরের পর বছর, নিষেধাজ্ঞার প্যাঁচে আটকে গেছে হাজার কোটি টাকার লেনদেন। ইউয়ানে চেষ্টা হয়েছিল, হয়নি। এবার রুপিতে সুযোগ এসেছে সামনে। আর ঠিক এই জায়গায় এসে থমকে যাচ্ছে বিএনপি আর জামাত। কোনো সাড়া-শব্দ নেই। কোনো অবস্থান নেই। যেন এটা তাদের দেশের বিষয়ই না।

অথচ এই দুই দলের মুখেই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় জাতীয়তাবাদের বুলি। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, বিদেশি খবরদারি থেকে মুক্তি, এসব কথা মাইকে মাইকে বাজে তাদের সভায়। কিন্তু যেই মুহূর্তে সত্যিকারের একটা সুযোগ আসে দেশের অর্থনীতিকে একটামাত্র বিদেশি মুদ্রার জিম্মিদশা থেকে বের করার, তখনই তাদের গলা শুকিয়ে যায়। ডলারের বাইরে গিয়ে রুপিতে বাণিজ্য মানে ওয়াশিংটনের একটু হলেও অসন্তুষ্ট হওয়া। আর সেই অসন্তুষ্টির ভয়েই যেন সব জাতীয়তাবাদ ফুঁটুস করে চুপসে যায় বেলুনের মতো।

সোনালী ব্যাংকের ওই আটকে থাকা টাকাটা নিয়ে সরকার একটা প্রস্তাব দিয়েছিল, দেশের ভেতরেই বিনিয়োগ করার। রাশিয়া রাজি হয়নি। এখন বিকল্প হিসেবে রুপির প্রস্তাব টেবিলে। এই সিদ্ধান্তটা নেওয়ার এখতিয়ার যাদের হাতে, সেই ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরিক বিএনপি আর সংসদে তাদের সঙ্গী জামাতে ইসলামী, দুই দলই যেন এই ইস্যুতে জিহ্বা কামড়ে বসে আছে। একবারও প্রকাশ্যে বলছে না, রুপিতে লেনদেন হোক নাকি না হোক। একবারও বলছে না, রূপপুরের আটকে থাকা টাকা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী। এই নীরবতাটাই আসলে তাদের সত্যিকারের অবস্থান, শুধু সেটা তারা মুখ ফুটে বলছে না।

কেউ হয়তো বলবে, সতর্ক থাকাটাই বুদ্ধিমানের কাজ, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করে লাভ নেই, নিষেধাজ্ঞার আঁচ যেন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতেও না লাগে। এই যুক্তিটা একেবারে ফেলনা না, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ঝুঁকি হিসেব করাটা স্বাভাবিক কূটনীতিরই অংশ। কিন্তু সতর্কতা আর নীরবতা এক জিনিস না। সতর্ক একটা সরকার অন্তত বলে, আমরা যাচাই করছি, শর্ত দেখছি, আলোচনা চলছে। আর নীরব একটা সরকার শুধু চুপ করে বসে থাকে, যতক্ষণ না প্রশ্নটা নিজে থেকেই হারিয়ে যায় মানুষের মন থেকে।

ভারত আর রাশিয়া কোনো আনুষ্ঠানিক মুদ্রা বিনিময় চুক্তি ছাড়াই রুপিতে বাণিজ্যের একটা অংশ চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও ভারতের সঙ্গে রুপিতে কিছু লেনদেন করছে ইতিমধ্যে। তাহলে রাশিয়ার সঙ্গে একই পথে হাঁটতে সমস্যা কোথায়, সেই ব্যাখ্যাটা অন্তত জাতির সামনে দেওয়া যেত। ঢাকায় রুশ ব্যাংকের শাখা খোলার প্রস্তাব, আলাদা পেমেন্ট অবকাঠামো, ব্যবসায় কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব, এতগুলো টেবিলে রাখা প্রস্তাবের একটার জবাবও এখনও স্পষ্ট করে দেয়নি সরকার

আসল কথা হলো, বিদেশনীতিতে সাহস দেখানোর একটা সুযোগ এসেছিল, আর সেই সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে সরকার আর তার শরিকরা বেছে নিয়েছে নীরবতা। জাতীয়তাবাদের কথা বলে ভোট চাওয়া সহজ, কিন্তু আসল মুহূর্তে সেই জাতীয়তাবাদ প্রমাণ করার সময় এলে হাত গুটিয়ে বসে থাকাটাই যেন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট আলাপ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইন–শৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ: আগুন–ভাঙচুর, গণহিংসা ও ধর্মীয় স

1

বিপদে পড়লেই আওয়ামী লীগের কথা মনে পড়ে ইউনূসের

2

অবৈধ ক্ষমতার খেলায় মাতৃভূমি দারিদ্র্যের দেশে পরিণত ইউনুসের ন

3

দিয়াবাড়িতে মিছিল শেষে নিখোঁজ: তুরাগ নদী থেকে ছাত্রলীগ কর্মীর

4

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা,

5

এমপি ছাড়াই ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বাড়ছে ৩৯% অন্তর্বর্তী সরকারে

6

কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের মুক্তি ও রমজানকে ঘিরে মানবিক কর্মসূচ

7

একের পর এক শিশু হত্যা-ধর্ষণ, এবার মুখ খুললেন প্রগতিশীল শিক্ষ

8

নির্বাচন ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: প্রশাসন, ভোটকেন্দ্র ও

9

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে শিবিরের সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী

10

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করে বাংলাদেশ আসলে কী পেল?

11

জাতিসংঘ মিশন থেকে ১৮০ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার: ইউনুস সরকারের

12

জাতীয় নেতা তোফায়েল আহমেদ এখনো জীবিত, তবে অবস্থা ক্রিটিক্যাল

13

চট্টগ্রাম বন্দরের নিয়ন্ত্রণ বিদেশি অপারেটরের হাতে: জাতীয় স্ব

14

তিন বাহিনীকে নিয়ে জাতির সঙ্গে ইউনুসের প্রেস উইংয়ের মিথ্যাচ

15

ইসহাক দারের সফরের পর একাত্তরের গণহত্যার দায় ধামাচাপা দিতে উঠ

16

পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে হাইজ্যাক করেছে জঙ্গিরা?

17

ওয়াশিংটনে ‘কংগ্রেশনাল ব্রিফিং’: বাংলাদেশের ভোট ‘প্রশ্নবিদ্ধ

18

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী অনন্য গাঙ্গুলীর মরদেহ

19

বেরিয়ে আসছে ছাত্রলীগের গুপ্ত শিবিরের ভয়াবাহ তথ্য, ফেঁসে গেলে

20