বিশেষ প্রতিবেদন
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (NDA) সই করে। সরকারের ব্যাখ্যা ছিল “জরুরি পরিস্থিতি” এবং ট্রাম্প আমলে আরোপিত “রেসিপ্রোকাল ট্যাক্স” কমানোর প্রয়োজন। কিন্তু চুক্তিটি যেভাবে করা হয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো অর্থবহ পরামর্শ ছাড়াই চুক্তিটি দ্রুত সই করা হয়। NDA হওয়ায় এর শর্তাবলি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। সরকার বারবার বলেছে, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়নি। কিন্তু চুক্তি গোপন রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেনি।
পরবর্তীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ফাঁস হওয়া ২০ পৃষ্ঠার খসড়া নথি ভিন্ন চিত্র দেখায়। সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও পররাষ্ট্রনীতিসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
চুক্তি সইয়ের সময়ই সংবাদমাধ্যমে বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির কথা উঠে আসে। তবে আগস্টে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন জানান, মার্কিন কর্মকর্তারা বোয়িং বিক্রিতে তেমন আগ্রহ দেখাননি। বিমানের পক্ষ থেকেও তখন কোনো কেনাকাটার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি।
এরপর হঠাৎ করেই মাত্র চার মাসের মধ্যে নাটকীয় মোড়। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিমানের বোর্ড সভায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
গোপন NDA আর বোয়িং কেনার এই ধারাবাহিকতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—এই চুক্তির ভেতরে আসলে কী ছিল, আর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী দিল?
মন্তব্য করুন