নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে ইসলামীর নারী-বিদ্বেষী মন্তব্য ও বিতর্ক কমাতে দায় এড়ানো কৌশল হিসেবে বারবার “হ্যাকিং”-এর দাবিকে সামনে আনা নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলের মহাসচিব মিয়া গোলাম পরোয়ার একটি বিতর্কিত ব্যাখ্যা-সংক্রান্ত পোস্ট নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে দুই ঘণ্টা না যেতেই তার অ্যাকাউন্টিও “হ্যাক” হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় জানুয়ারি ৩১ তারিখে, যখন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের ঘর থেকে বের করে আধুনিকতার নামে কাজে যুক্ত করাকে “পতিতাবৃত্তির আরেকটি রূপ” বলে উল্লেখ করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অশ্লীলতা এবং নারীদের পণ্যে পরিণত করা অগ্রগতি নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিফলন। এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র নিন্দার জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সন্ধ্যায় মিয়া গোলাম পরোয়ার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের প্রতি “শান্ত ও সংযত” থাকার আহ্বান জানিয়ে দলের “নীতিগত অবস্থান” ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি ইসলামে নারীদের সামাজিক চলাচলের নির্দিষ্ট বিধানের কথা উল্লেখ করেন, যা আরও সমালোচনা সৃষ্টি করে।
তবে রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে তার অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটি ঘোষণা আসে যেখানে দাবি করা হয়, দলের “ক্যাম্পেইন টিমের” একজন সদস্যের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে এবং বিতর্কিত পোস্টগুলো দলের নীতি প্রতিফলিত করে না। পুলিশ ও ইসিতে অভিযোগ জমা দেওয়ার কথা জানিয়ে পরদিন সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
জামায়াতের এই বারবার “হ্যাকিং” দাবি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দলটির দীর্ঘদিনের নারীবিদ্বেষী অবস্থান আড়াল করার একটি কৌশল। তাদের মতে, বিতর্কিত পোস্টগুলো দলের আসল মানসিকতারই প্রতিফলন। ভোটের আগে এমন মন্তব্যের জন্য জনসাধারণের ক্ষোভ বাড়ছে এবং অনেকেই এটি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখছেন।
ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন পর্যন্ত রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঝাড়ু মিছিল হয়েছে, যা প্রতীকীভাবে “নারীদের অপমানকারী বক্তব্য” সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান হিসেবে দেখা হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করছেন যে এই ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি বিদ্বেষ উসকে দেয় এবং সমাজকে অন্ধকারমুখী ধারায় ঠেলে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বারবার “হ্যাকিং”-এর অজুহাত তুলে দলটি শুধু সমালোচনা এড়াতে চাইছে না, বরং তাদের প্রকৃত অবস্থান গোপন করতে চাইছে। নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক জামায়াতের গ্রহণযোগ্যতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
মন্তব্য করুন