ডেস্ক রিপোর্ট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধ্যাপক আসিফ নজরুলের “ধন্যবাদ পাকিস্তান” মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৭১ সালের গণহত্যা ও দীর্ঘ শোষণের জন্য রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা না চাওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন নেটিজেনরা।
সমালোচকদের মতে, পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল বর্তমান কূটনৈতিক বা সমসাময়িক ইস্যুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের দায় স্বীকার এবং আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা আজও পাকিস্তানের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। সেই বাস্তবতায় পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানানোকে ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সংবেদনশীলতার ঘাটতি হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
নেটিজেনদের একটি অংশের দাবি, কোনো ক্রীড়াবিষয়ক বা তাৎক্ষণিক ঘটনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ব্যক্তিগত পর্যায়ে হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় অপরাধের দায় এড়িয়ে এমন ভাষা ব্যবহার নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তাদের মতে, এতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতি এবং দীর্ঘদিন পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দি থাকা মানুষের অভিজ্ঞতা খাটো করা হয়।
সমালোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পাকিস্তান রাষ্ট্র এখনো ১৯৭১ সালের অপরাধের দায় স্বীকারে সুস্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে ইতিহাস বিকৃতি ও দায় এড়ানোর প্রবণতাই স্পষ্ট হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কেবল একটি সমসাময়িক ঘটনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশকে অনেকে ‘ইগো-পলিটিক্স’ বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, আসিফ নজরুলের এই মন্তব্য নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে—বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পাকিস্তান প্রশ্নটি শুধু বর্তমান রাজনীতি বা কোনো একক ঘটনার বিষয় নয়; এটি গভীরভাবে ইতিহাস, ন্যায়বিচার ও নৈতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে জড়িত। সে কারণেই “ধন্যবাদ পাকিস্তান” মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এতটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন