নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। দলটির দাবি, পুর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত যে দুটি মামলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাজা দেওয়া হয়েছে, তা একেবারেই সাজানো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৪-এর বিচারক রবিউল আলম এই দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ বলছে, এই রায় প্রকৃত বিচার নয়, বরং ইউনুস ঘনিষ্ঠ মহলের নির্দেশে সাজানো একটি রাজনৈতিক প্রহসন।
সাজানো মামলার অভিযোগ
প্রথম মামলায় আজমিনা সিদ্দিককে ৭ বছর, তুলিপ সিদ্দিককে ২ বছর এবং শেখ হাসিনাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও রাজউকের প্রাক্তন চেয়ারম্যানসহ ১৮ জন আসামিকে সাজা দেওয়া হয়। প্লট বরাদ্দও বাতিল করা হয়।
দ্বিতীয় মামলায় রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ৭ বছর, তুলিপ সিদ্দিক ২ বছর এবং শেখ হাসিনা আরেকটি ৫ বছরের সাজা পান। এখানেও বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ৫ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত হন।
আওয়ামী লীগের ভাষ্য, তদন্ত ছিল তড়িঘড়ি, অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন, আর বিচার ছিল সরাসরি চাপিয়ে দেওয়া। খুব অল্প সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে এভাবে রায় ঘোষণা বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি অসম্মান।
বিচার নয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ
৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ এই রায়কে “ইউনুস সরকারের সাজানো প্রতিহিংসামূলক রায়” বলে নিন্দা জানায়। তারা বলে, দেশে যখন সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপদ নয়, তখন এই তথাকথিত আদালত শুধুই সরকারের প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করছে।
আওয়ামী লীগ আরও বলেছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এই সাজানো মামলার লক্ষ্য হলো তাঁদের সম্মানহানি ও রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা।
ইউনুস সরকারের দ্বিচারিতা
দলের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, যে সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে রয়েছে, তাদের কি অধিকার আছে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও প্রশাসনিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার? তারা অভিযোগ করেন, কেবল আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্রুত তদন্ত ও সাজা দেওয়া হলেও, ইউনুস মহলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হয় না।
শেখ হাসিনা পূর্বেও বলেছিলেন যে, তাঁর পরিবারের জমি বরাদ্দের সব ধাপই নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে, অথচ একই প্রকল্পে ইউনুস নিজের জন্য হাজার হাজার কাঠা জমি নিয়েছেন, তবুও সেই বিষয়ে তদন্ত নেই।
জনগণের প্রতি আওয়ামী লীগের আহ্বান
দলটি বলেছে, এই রায় গণতন্ত্র ও বিচারের ওপর প্রকাশ্য আঘাত। তাই দেশবাসীকে অবৈধ সরকারের সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে যেকোনো নির্বাচনী আয়োজন ব্যর্থ করা হবে এবং জনগণই রাস্তায় নেমে এর জবাব দেবে।
উপসংহার
শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে দেওয়া এই সাজা যে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, তা এখন দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রে। অনেকেই মনে করছেন, ন্যায়বিচারের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ঢাকতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ বলছে, তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনগত ও গণতান্ত্রিক সব লড়াই চালিয়ে যাবে।
মন্তব্য করুন