Insight Desk
প্রকাশ : Jan 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অসুস্থতা ও ‘মিথ্যা’ মামলা: ১ বছরের বেশি কারাগারে শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগ সভাপতি, জামিন মিলছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি খাদিজা আক্তার ঊর্মি পায়ের গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরি, চলাফেরায় অক্ষমতা এবং চিকিৎসকের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট আদালতে দাখিল করার পরও এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, তিনি জুলাই আন্দোলনের অনেক আগেই শয্যাশায়ী ছিলেন, অথচ তাকে সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে কোনো বাস্তব প্রমাণ ছাড়া।

সবচেয়ে প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হলো, ঢাকার মামলা হয়েও তাকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে না রেখে দূরবর্তী কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল থেকে বয়োবৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য সেখানে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটিই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক যন্ত্রণা।

আইনজীবীরা জানান, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন শুরু হওয়ার অনেক আগেই ঊর্মির বাঁ পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। এমআরআই রিপোর্ট, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন এবং হাসপাতালের নথি আদালতে জমা দেওয়া হলেও তার জামিন হয়নি। আইনজীবীর ভাষায়, যিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারছিলেন না, তিনি হামলার ঘটনায় কীভাবে উপস্থিত থাকতে পারেন, এই প্রশ্নের উত্তর মামলা নথিতেও নেই।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, কিশোরগঞ্জ কারাগারে ঊর্মিকে সীমিত চলাফেরায় রাখা হচ্ছে এবং নিয়মিত চিকিৎসা মিলছে না। জেল কোড অনুযায়ী ফোনে কথা বলা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ ছাত্রলীগের আরও কয়েকজন আটক নেতাকর্মীর পরিবার থেকেও এসেছে, যারা বলছেন বন্দিদের দিনরাত এক কক্ষে তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে।

বরিশাল থেকে আসা এক আত্মীয় বলেন, এটি শুধু কারাবন্দি রাখা নয়, বরং একটি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে ভেঙে ফেলার পদ্ধতি। আমাদের বাড়ি বরিশালে, মেয়ে ঢাকায় পড়ত, আর তাকে পাঠানো হয়েছে কিশোরগঞ্জে। আমাদের পক্ষে নিয়মিত যাওয়া সম্ভব নয়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর উত্তরা থেকে ডিবি পুলিশ ঊর্মিকে গ্রেপ্তার করে। শাহবাগ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে আদালতে উল্লিখিত অভিযোগের সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার কোনো সামঞ্জস্য না থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং মানবাধিকারকর্মীরা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কোনো অসুস্থ নারীকে বিচারাধীন অবস্থায় দূরবর্তী জেলে রাখা, চিকিৎসা সীমিত করা এবং নিয়মিত পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ রাখার ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের লঙ্ঘন। তারা অবিলম্বে ঊর্মির জামিন, সঠিক চিকিৎসা এবং সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দাবি করেছেন।

কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে কিছু বন্দিকে নিরাপত্তার কারণে বিভিন্ন কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। তবে পরিবার বলছে, ঊর্মির পায়ের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে এবং সময়মত চিকিৎসা না পেলে ভবিষ্যতে স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তিন বাহিনীকে নিয়ে জাতির সঙ্গে ইউনুসের প্রেস উইংয়ের মিথ্যাচ

1

অস্ট্রেলিয়ার ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্পে বাংলাদেশে অন্তর্

2

আন্তর্জাতিক সহায়তা বিতর্কে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার

3

জাতীয় পার্টিকে কিছুই করা হয়নি, শুধু ‘একটু দৌড়ানি’ দেওয়া হয়ে

4

ইউনূসের ফাঁদে পা দিল বিএনপি

5

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা: ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্তপ্ত আলোচনা,

6

রাষ্ট্রপতির বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক: দুর্নীতির সূচক ও ইতিহাসের প

7

নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র স্কুলে আগুন, শ্রেণিকক্ষ পুড়ে ছাই

8

বাংলাদেশের চলছে নারীদের বিরুদ্ধে গোপন যুদ্ধ

9

নীলখেতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সিলসহ দেড় কোটি পোস্টাল ব্যালট ছাপানোর

10

২০২৫: সহিংসতা, নির্যাতন ও মানবাধিকার সংকট

11

আয়নাঘরে গুম নয়, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান

12

ইউনুস সরকারের ব্যর্থতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে অনিশ্চয়তার ঘন

13

দেশে ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে ভুলিয়ে খ্রিস্টান রাজ্য বানাতে মরিয়

14

মানবতার নামে শহীদুল আলমের সমুদ্রযাত্রা ও নেপথ্যের বিতর্ক

15

বিপদে পড়লেই আওয়ামী লীগের কথা মনে পড়ে ইউনূসের

16

কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ বিব্রত

17

শিক্ষার আড়ালে বোমা তৈরির কার্যক্রম: মাদ্রাসায় ছড়ানো হচ্ছিল জ

18

দেশ ধ্বংস করতে জামায়াত-শিবিরের ছাত্র-জনতার ব্যানার

19

জাতিসংঘের মিশন চালুর সিদ্ধান্ত থেকে দৃষ্টি সরাতেই উত্তরায় বি

20