নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আরেকটি হতাশার অধ্যায় রচিত হলো চট্টগ্রামে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশের মুখে পড়েছে লিটন দাসের দল। তবে ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে উঠছে ক্রিকেট নয়, বরং রাজনীতির ছায়া, বিশেষ করে দলের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে রাজনৈতিক কারণে দল থেকে বাইরে রাখার সিদ্ধান্তকে ঘিরে।
চট্টগ্রামের সিরিজে বাংলাদেশ একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে নিজেদেরই বিপদে ফেলেছে। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা, দ্বিতীয় ম্যাচে ফিল্ডিং বিপর্যয়, আর শেষ ম্যাচে সবকিছু মিলিয়েই গড়েছে পরাজয়ের চিত্রনাট্য। শেষ ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৫১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। একমাত্র তানজিদ হাসান তামিমের ৬২ বলে ৮৯ রানের ইনিংসটাই ছিল উজ্জ্বল দিক। বাকিদের কেউই দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়রা ছিলেন আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। রস্টন চেজ ও আকিম অগাস্টের ফিফটির ভরসায় ১৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয় সফরকারীরা। এর মাধ্যমে ড্যারেন স্যামির দল প্রথমবারের মতো দেশের বাইরে কোনো টি–টোয়েন্টি সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানকে রাজনৈতিক কারণে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে। সাকিব শুধু ব্যাট ও বলেই নয়, তার নেতৃত্ব ও উপস্থিতি দলকে মানসিকভাবে শক্ত রাখত। কিন্তু নির্বাচনী ও রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে তাকে দল থেকে সরিয়ে রাখায় দলের ড্রেসিংরুমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে এক ক্রীড়া বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, “বাংলাদেশের বর্তমান পারফরমেন্স শুধুই ক্রিকেটীয় নয়; এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফল। সাকিবের মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে সরিয়ে রেখে দল গঠন করা মানে নিজের পায়ের তলায় কুড়াল মারা।”
গেল মাসে নেপালের কাছে সিরিজ হারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার বাংলাদেশে এসে দেখিয়ে দিল কীভাবে একটি একতাবদ্ধ দল ঘুরে দাঁড়ায়। আর বাংলাদেশ শিখল উল্টো পাঠ, রাজনীতি যখন মাঠে ঢোকে তখন ক্রিকেট হারায় নিজের রঙ।
মন্তব্য করুন