Insight Desk
প্রকাশ : Feb 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্পে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিহীন নির্বাচনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা দেশটির নাজুক গণতন্ত্রের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ণায়ক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কিন্তু আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশে দেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখায় ইউনূস গং ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। সেদিন তিনি গণভবন ছেড়ে সামরিক বিমানে ভারতে নির্বাসনে চলে যান।

THE AUSTRALIA TODAY পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ২০ লাখ ডলারের ব্যালট প্রকল্প বাংলাদেশে একটি অ-অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিতর্কিত নির্বাচনকে অর্থায়ন করছে। এতে বলা হয়, এই নির্বাচন দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ রেখে পরিচালিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। দলটির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে চলমান ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রমের অজুহাতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছেন। অথচ, ভয়েস অব আমেরিকার এক স্বাধীন জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫৭ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসাকে সমর্থন করেন—যা নির্বাহী সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া জাতিসংঘ ও অনেক মানবাধিকার সংস্থা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উগ্র ইসলামিক পন্থী দলগুলোর আগ্রাসন ও প্রভাব ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক বলয় অনুপস্থিত থাকায়, বর্তমানে বিএনপি ও উগ্রপন্থী জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে—ফলে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি ধর্মীয়ভাবে ঝুঁকিপ্রবণ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের গণপরিষদ সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা স্বার্থের সংঘাত ও ভোট ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনার আইনি ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে ইতোমধ্যে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি অর্থায়ন, বৃহত্তম দলের উপর নিষেধাজ্ঞা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা সংকট এবং উগ্র রাজনৈতিক শক্তির উত্থান—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টার্গেট কিলিংয়ে সনাতনী সম্প্রদায়: আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও মব সন

1

রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবী দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের

2

ইউনূসের মদদে ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজত্ব; রুখব

3

বাংলাদেশের পাসপোর্ট মানেই ‘সন্দেহজনক নাগরিক

4

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকট: কণ্ঠরোধ, স্বাধীনতা হরণ, সর্বত্র

5

ভারতসহ ৮ দেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে না

6

মবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে ত্রাস ছড়াচ্ছেন ইউনূস

7

ডিএমপি কমিশনার ফের প্রমাণ করলেন, জঙ্গিদের মদদেই ক্ষমতায় ইউনূ

8

মন্দির অপসারণ না হলে ভেঙে ফেলার হুমকি মুসল্লীদের

9

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

10

আয়নাঘরে গুম নয়, আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন ব্যারিস্টার আরমান

11

নয়া ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’র আগমনধ্বনি!

12

অসুস্থতা ও ‘মিথ্যা’ মামলা: ১ বছরের বেশি কারাগারে শামসুন্নাহা

13

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড দেশের গণমাধ্যম

14

বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশে জঙ্গি রপ্তানি করছে পা

15

কাঁদল বাংলাদেশ, ৩২ আতঙ্কে ঘুম হারাম ইউনূস গংদের

16

নসিপি ও বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ নয় নারী নেত্রীরা

17

নির্বাচন সামনে রেখে জানুয়ারিতে সহিংসতা দিগুণ, মানবাধিকার পরি

18

দুদক ধ্বংসে মরিয়া ইউনূস গং

19

শিক্ষকদের আন্দোলনে উত্তপ্ত শাহবাগ, রাজধানীর যান চলাচলে স্থবি

20