Insight Desk
প্রকাশ : Aug 25, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইউনূস কারো নয়: ক্ষমতার খেলায় এক স্বার্থপর মুখ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি আলোচিত নাম। নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণের ধারণাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছেন। তবে তাঁর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূসের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তাঁর স্বার্থপর উদ্দেশ্য এবং ক্ষমতার লালসাকে উন্মোচিত করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়। এই আন্দোলনকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে একটি "মেটিকুলাস ডিজাইন" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে এই আন্দোলনের পেছনে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। এই ডিজাইনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে মাহফুজ আলমের নাম উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ইউনূস সরকারের তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই আন্দোলন ছিল ক্ষমতা দখলের একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে ইউনূস নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিশ্লেষকেরা বলছে, "ইউনূসের এই পদক্ষেপে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে ছাত্র আন্দোলনকে ব্যবহার করেছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিবর্তে ষড়যন্ত্রের ফলাফল।"

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ড. ইউনূস বারবার দাবি করেছেন, "আমাকে ছাত্ররা বসিয়েছে।" তিনি মনে করেছিলেন, ছাত্রদের সমর্থন তাঁর ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু শীঘ্রই তিনি বুঝতে পারেন যে শুধু ছাত্রদের দিয়ে তার উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব নয়। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন, যার পেছনে তাঁর পরিকল্পিত অর্থায়ন এবং ডিজাইন কাজ করেছে। এনসিপির মাধ্যমে তিনি তরুণদের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু এটিও তাঁর ক্ষমতার লালসাকে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়। কারণ এরইমধ্যে নারী কেলেঙ্কারি, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কারণে ব্যাকফুটে চলে গেছে দলটি। তাদের জনপ্রিয়তাও এখন তলানিতে।

এরপর ইউনূস ইসলামিক দলগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়েন। জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ফোন করে তিনি বলেন, "আপনারা পছন্দের লোক, আপনাদের দল আমার পছন্দের, আমি আপনাদের সাথে আছি।" একইভাবে, অন্যান্য ইসলামিক দলগুলোকেও তিনি একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল তার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং গ্রামীণ ব্যাংকসহ তাঁর এনজিও সাম্রাজ্যের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদকে বৈধতা দেওয়া।

বিশ্লেষকরা বলছে, "ইউনূসের ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তাঁর নীতিহীন রাজনৈতিক কৌশলের প্রমাণ। তিনি ক্ষমতার জন্য যে কোনো মূল্যে যে কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে হাত মেলাতে প্রস্তুত।"

ইউনূসের শাসনকালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ এবং মূল্যবোধের উপর বারবার আঘাত হানা হয়েছে। দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে। এছাড়া, তার শাসনামলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তার নেতৃত্বের দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।

 বিশ্লেষকদের ভাষায়- ইউনূসের শাসনকালে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের উপর আঘাত এবং দেশবিরোধী শক্তির উত্থান দেশের জন্য বিপজ্জনক। তিনি নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্যকে বিপন্ন করেছেন।"

এরপর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পিআর পদ্ধতি নিয়ে সরকারের বিরোধিতা শুরু করে। এখানেও ইউনূসের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল হয়। ছাত্র, জামায়াত এবং ইসলামিক দলগুলোর মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়ে ইউনূস এবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শরণাপন্ন হয়েছেন। লন্ডনে তারেক রহমানের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে তিনি প্রতিশ্রুতি আদায় করেছেন যে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর এনজিও সাম্রাজ্য এবং বিনিয়োগ রক্ষা করবে। এছাড়া, জুলাই-আগস্টের গণহত্যা এবং ছাত্র হত্যার দায় থেকে তাকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও পেয়েছেন। এই চুক্তির বিনিময়ে তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন চুক্তি ইউনূসের স্বার্থপর চরিত্রের আরেকটি প্রমাণ। তিনি ছাত্র, জামায়াত এবং ইসলামিক দলগুলোকে বিপদে ফেলে বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা তার নীতিহীন রাজনীতির পরিচয় দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, "ইউনূসের বিএনপির সঙ্গে গোপন চুক্তি তার ক্ষমতার লালসা এবং স্বার্থপর মনোভাবের স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি নিজের সম্পদ এবং প্রভাব রক্ষার জন্য যে কোনো পক্ষের সঙ্গে হাত মিলাতে প্রস্তুত।"

ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং তার এনজিও সাম্রাজ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সহায়তায় গ্রামীণ ব্যাংক এবং গ্রামীণ টেলিকমের লাইসেন্স পেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেন। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে এনজিওর মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। এই অর্থ পাচারের বৈধতা দেওয়ার জন্যই তিনি ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অর্থনীতিবিদ বলেন, "ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক এবং এনজিওগুলো দরিদ্রদের কল্যাণের নামে অর্থ পাচারের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তার ক্ষমতার লালসা এই অর্থ পাচারকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা মাত্র।"

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাজনৈতিক যাত্রা এবং তার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে তিনি কারো নন। তিনি শেখ হাসিনার সরকারকে ব্যবহার করে নিজের আর্থিক সাম্রাজ্য গড়েছেন, আন্দোলনের নামে তাঁকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করেছেন, এবং এখন বিএনপির সঙ্গে গোপন চুক্তি করে নিজের সম্পদ ও ক্ষমতা রক্ষার চেষ্টা করছেন। ছাত্র, জামায়াত এবং ইসলামিক দলগুলোকে তিনি ব্যবহার করেছেন, কিন্তু তাদের বিপদে ফেলে নিজের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূসের এই স্বার্থপর চরিত্র এবং নীতিহীন রাজনীতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার জন্য হুমকিস্বরূপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্লেষক বলেন, "ইউনুস কারো নয়, তিনি শুধু নিজের স্বার্থের। তার ক্ষমতার লালসা এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ দেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ড. ইউনূসের অনৈতিক সুবিধা

1

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সময়: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

2

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা চুক্তি: রাজনীতিতে নতুন বিতর

3

বিমানবাহিনীতে জঙ্গি নেটওয়ার্কের চেষ্টা? পেশোয়ার থেকে এল নতুন

4

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জননেত্রী শেখ হা

5

গোপালগঞ্জকে অশান্ত করতে এনসিসি ও ইউনূস গংয়ের পরিকল্পিত হত্যা

6

জয়পুরহাটে ভোটকেন্দ্রের সামনে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর

7

জেলে ঠাঁই নেই, তাই সেনানিবাসেই নতুন কারাগার!

8

পোপ লিও চতুর্দশের উদ্বেগ: বাংলাদেশে খ্রিস্টান সংখ্যালঘুদের ও

9

মন্দির অপসারণ না হলে ভেঙে ফেলার হুমকি মুসল্লীদের

10

ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে যুব মহিলা লীগের কর্

11

মার্কিনিরা কোথায় বিনিয়োগ করেছে তা দেখাতেই আয়োজিত হচ্ছে রোহিঙ

12

শাহজালাল বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ইউনুস সরকারের নীরব সম

13

ময়মনসিংহের ফুলপুরে যুবলীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার

14

মব পেল বৈধতা, ইউনূসের নেতৃত্বে রক্তাক্ত বাংলাদেশ

15

এমপি ছাড়াই ‘এমপি প্রকল্পে’ ব্যয় বাড়ছে ৩৯% অন্তর্বর্তী সরকারে

16

ইউনূসের ভূমিকায় আলোচনায় চট্টগ্রাম বন্দর ও সেন্টমার্টিন

17

পালানোর আগে ব্যাংক ফাঁকা করার গোপন মিশনে ইউনূস

18

চাইলাম কি আর পাইলাম কি—এই তো লাল স্বাধীনতা

19

নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় জানার পর আরও বেপোরোয়া বিএনপি

20