Insight Pulse
প্রকাশ : Oct 15, 2025 ইং
অনলাইন সংস্করণ

রাউজানে প্রশাসন নীরব, অপরাধীরা দাপটের সঙ্গে চলাফেরা: ইউনূস সরকারের আমলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর”

নিজস্ব প্রতিবেদক 


চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা, যেখানে দেশের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নিজ জেলা, আজ আতঙ্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১৪ মাসে এই উপজেলায় ঘটেছে অন্তত ১৬টি হত্যাকাণ্ড, যার মধ্যে ১১টি সরাসরি রাজনৈতিক ও ক্ষমতার আধিপত্য নিয়ে সংঘটিত। বাকিগুলো সংঘটিত হয়েছে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, অধিকাংশ অপরাধীর এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রাউজানের প্রতিটি ইউনিয়নে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। ফজল হক বাহিনী, জসিম বাহিনী, কামাল বাহিনী, রমজান বাহিনী, মামুন বাহিনী, ভূপেশ বাহিনী সহ অন্তত ৮-১০টি গ্রুপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে। এসব বাহিনী ইটভাটা, বালুমহাল, পাহাড় কাটাসহ নানা অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ সন্ত্রাসী বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “রাউজান দেখলে মনে হয় এখানে কোনও প্রশাসন নেই। সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।” প্রতিদিন ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রশাসনের নীরবতায় এবং রাজনৈতিক নেতাদের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে সংঘটিত ৬৫টি সংঘর্ষের মধ্যে ১১টি সরাসরি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি ও যুবদলের ৬ নেতা-কর্মী এবং আওয়ামী লীগের ৪ নেতা। হত্যার অধিকাংশ ঘটনায় মামলা হলেও, আসামিদের ধরতে পারছে না প্রশাসন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মব করে নির্যাতন করা হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

দুই প্রধান রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ রাউজানে দমনে পরিণত হয়েছে। বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত; একপক্ষের নেতৃত্বে সাবেক কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, অপরপক্ষের নেতৃত্বে গোলাম আকবর খন্দকার। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, আগের সন্ত্রাসীরা আবার বিএনপির ব্যানারে সক্রিয় হয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম আকবর খন্দকার স্বীকার করেছেন যে, প্রতিদিন কোটি টাকার চাঁদা আদায় হচ্ছে। ইটভাটা, গাছের ট্রাক, বাড়ি নির্মাণের প্রতিটি কাজে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। এই টাকায় অস্ত্র কেনা হচ্ছে, নতুন বাহিনী গঠন করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত ১৪ মাসে তিনবার ওসি বদল হলেও খুন, সন্ত্রাস ও সংঘর্ষ কমেনি। ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি হত্যার মধ্যে ১১টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, যার অনেক ঘটনায় এখনও কোনও গ্রেফতার হয়নি।

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদ জানান, সন্ত্রাসীদের তালিকা সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কখন কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা অনিশ্চিত। স্থানীয়রা বলছেন, “কাগজে নাম থাকলে কী হবে, যখন তারা দিনে দিনে খুন-চাঁদাবাজি চালাচ্ছে।”

রাউজান কেবল একটি উদাহরণ। যেখানে প্রশাসন নীরব, রাজনৈতিক নেতারা দ্বন্দ্বে ব্যস্ত, এবং সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, সেখানে আইনের শাসনের প্রভাব অদৃশ্য। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই রকম পরিস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজয় দিবসে এবারও প্যারেড হবে না: জনমনে নিন্দা ও বিতর্ক, পাকি

1

সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার নেপথ্যে কী?

2

এক সময় মানবাধিকারের মুখপাত্র আসদুজ্জামান এখন মবের হোতা?

3

মব ভায়োলেন্সে প্যারালাইজড দেশের গণমাধ্যম

4

৬০০ কোটি টাকার হাসপাতাল এখন জুলাই আহতদের ‘আবাসিক হোটেল’

5

ইউনূসের মদদে ছাত্রনেতাদের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির রাজত্ব; রুখব

6

ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ! পণ্য বোঝাই না করেই চট্টগ্

7

বিপাকে চীনের সামরিক রপ্তানি মডেল

8

জামাতি স্টাইলে এবার জাপার কার্যালয়ে আগুন দিল গণঅধিকার পরিষদ

9

'নাগরিকের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্র ব্যর্থ'- আসকের উদ্বেগ

10

পুলিশ হেফাজতে বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু: পরিবারের দাবি পরিকল্

11

ক্ষুধার জ্বালায় পিতা—খাবার দিতে না পেরে শিশুকন্যাকে হত্যা

12

জামায়াতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রথম আলো-ডেইলি স্টার

13

জাতিসংঘ মিশন থেকে ১৮০ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার: ইউনুস সরকারের

14

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনই প্রমাণ করবে তিনি স্বৈরাচার ছিলেন ন

15

দলে ফিরলেন শামীম-নাঈম, ওয়ানডেতে প্রথমবার তানভির

16

এনসিপি নেতা মুনতাসিরের হুঁশিয়ারি: ‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের সব বে

17

সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তারের জেরে ডিবি কর্মকর্তার ওপর নৃশং

18

নির্যাতন-অবমাননার চাপে ভেঙে পড়ছে পুলিশ: “বানরের মতো খাঁচায় ব

19

২১ আগস্টের দাগি আসামিদের খালাস দিল ইউনূসের ক্যাঙ্গারু কোর্ট

20