নিজস্ব প্রতিবেদক
কোভিড-১৯ মহামারির দিনগুলোতে বাংলাদেশের মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনের ওপর নির্ভর করত। মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা-এর নেতৃত্বে প্রতিদিন আক্রান্ত, মৃত্যু ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হতো। অনিশ্চয়তার সময়ে এই ধারাবাহিক ব্রিফিং জনমনে কিছুটা হলেও আস্থা তৈরি করেছিল।
সমালোচনার কেন্দ্র কোথায় ছিল?
তথ্যপ্রবাহ চলমান থাকলেও বিতর্ক থেমে ছিল না। এক শ্রেণির সমালোচক তখন নীতিগত প্রশ্নের বদলে ব্যক্তিগত বিষয় এমনকি পোশাক নিয়ে আক্রমণ করেছিল। জনস্বাস্থ্য সংকটের মাঝেও আলোচনার ফোকাস সরে গিয়েছিল মূল বিষয় থেকে।
হামের বিস্তার ও তথ্য ঘাটতি
বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। তবে নিয়মিত ব্রিফিং বা কেন্দ্রীয়ভাবে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে না এমন অভিযোগ উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের ব্যবধানও প্রশ্ন তৈরি করছে।
নীতিগত প্রস্তুতির প্রশ্ন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে বড় আকারের প্রাদুর্ভাব সাধারণত টিকাদান কভারেজে ঘাটতি, নজরদারির দুর্বলতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার অভাবের ইঙ্গিত দেয়। কোভিডকালে যে ধরনের সমন্বিত যোগাযোগ ও নজরদারি দেখা গিয়েছিল, এখানে তার ঘাটতি স্পষ্ট এমন মতও রয়েছে।
তুলনায় ভিন্ন চিত্র
কোভিড মোকাবিলায় তথ্যপ্রকাশ, নিয়মিত ব্রিফিং ও জনসচেতনতা প্রচারে তুলনামূলক সক্রিয়তা দেখা গিয়েছিল। বিপরীতে হামের ক্ষেত্রে একই মাত্রার দৃশ্যমানতা ও সমন্বয় না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হচ্ছে এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে।
জনগণের প্রশ্ন
সংকটের সময় তথ্য কতটা উন্মুক্ত থাকবে, কীভাবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে এসব প্রশ্ন এখন আবার সামনে এসেছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও ধারাবাহিক যোগাযোগই কি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সেই আলোচনাই এখন প্রাসঙ্গিক।
মন্তব্য করুন