Insight Desk
প্রকাশ : Jan 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গাবতলী হাট থেকে শেরাটন: হিযবুত কানেকশন ও হাজার কোটি টাকার অনিয়ম, দুদকের তলবে ডিএনসিসি প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এখন আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। গাবতলী পশুর হাট থেকে শুরু করে বনানীর বোরাক টাওয়ার পর্যন্ত বিভিন্ন খাতের দুর্নীতি নিয়ে বিস্তৃত অনুসন্ধানের পর অবশেষে দুদক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে তলব করেছে। নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠন হিযবুত তাহরীর-এর সাথে তার পুরনো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এই সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিল এমন সন্দেহসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে দুদক।

দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আশিকুর রহমানের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে যে আগামী ২৯ জানুয়ারি সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রশাসক এজাজকে এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দুর্নীতির নেটওয়ার্কে প্রশাসক একা নন। ডিএনসিসির ভেতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে যে সকল বড় টেন্ডার, অবৈধ নির্মাণ অনুমোদন, দোকান বরাদ্দ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং বিল ছাড়ের ব্যাকডোর প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মঈন উদ্দিন। প্রকৌশল বিভাগ তার নেতৃত্বে একধরনের অপ্রকাশ্য ‘প্রভাবশালী বাণিজ্য কেন্দ্র’-এ পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

গাবতলী পশুর হাটের ইজারা অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব ক্ষতি, বোরাক টাওয়ারের শেয়ার দখল নিয়ে বিতর্ক, ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার, কাঁচাবাজারের দোকান বরাদ্দে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং খিলগাঁও তালতলায় পার্কিংয়ের জায়গায় নকশা বহির্ভূত দোকান তৈরি—সব ধরনের অনিয়মের ফাইলে প্রশাসকের অনুমোদন থাকলেও বাস্তব কাজে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন প্রকৌশলী মঈন উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে যে ঠিকাদারদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কমিশন আদায়ের একটি সিন্ডিকেট তিনি গড়ে তুলেছেন, যা প্রশাসক এজাজের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

এজাজের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে তার পুরনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে। বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং গণমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে যে তিনি নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীর সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন এবং অতীতে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে প্রশাসক পদে বসে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নানা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। এতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে সরকারি সম্পদ ও প্রকল্প থেকে লুটপাট হওয়া অর্থ কোনো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার হচ্ছে কিনা।

সুশীল সমাজ এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রশাসককে তলব করলেই ডিএনসিসির দুর্নীতির মূল শিকড় ধরা যাবে না। প্রকৌশল বিভাগ থেকে শুরু করে টেন্ডার অনুমোদন ও অর্থ লোপাটের পুরো কাঠামো তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তারা মনে করেন যে কাগজে-কলমে ব্যক্তি বদলালেও সিন্ডিকেট অপরিবর্তিত থাকলে দুর্নীতি ও লুটপাট থামবে না। তাই প্রশাসক এজাজের পাশাপাশি প্রধান প্রকৌশলী মঈন উদ্দিনকে তদন্তের আওতায় এনে পুরো দুর্নীতির নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া জরুরি বলে তাঁরা মনে করেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শিক্ষার আড়ালে বোমা তৈরির কার্যক্রম: মাদ্রাসায় ছড়ানো হচ্ছিল জ

1

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংকট: কণ্ঠরোধ, স্বাধীনতা হরণ, সর্বত্র

2

কোটায় অস্ত্রের লাইসেন্স আসিফ মাহমুদের?

3

মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে আপোষহীন বিভুরঞ্জনকে নাজেহাল হতে হয়েছে

4

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ সময়: আফগানিস্তানের বিপক্ষে

5

ইউনূস সরকারের ব্যর্থতা: সারাদেশে খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, নদীতে

6

ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে ঢাবিকে তুলে দেওয়া হলো দেশবিরোধীদের হাত

7

ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে জাতিকে ঘোল খাওয়াচ্ছেন প্রেস সচিব

8

⁨সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অভিযোগ: ইসকনের বিরুদ্ধে উগ্র হিন্দুত্ব

9

সেনা সহায়তায় ইউনূস গংয়ের বিরুদ্ধে লাশ গুমের অভিযোগ, উত্তাল ম

10

দেশ কব্জায় আরও এগিয়ে গেল আমেরিকা, ইউনূসের প্রতারণা ফাঁস

11

ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনীতি, নেপথ্যে অর্থনীতিবিদ ইউনূস

12

সুন্দরবনে কোলাহলপূর্ণ পিকনিক: সমালোচনার কেন্দ্রে উপদেষ্টা সৈ

13

ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনুস সরকার, দ্রুত FTA চায় ঢাকা

14

ফ্রান্সে অবস্থানরত ডা. পিনাকী ভট্টাচার্যের অনলাইন কার্যক্রমে

15

বিএনপি-জামায়াতের মাধ্যমে ফের বাংলাদেশে জঙ্গি রপ্তানি করছে পা

16

লুকিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ইউনূসের চুক্তি, হুমকিতে বাংলাদেশের সা

17

জনমনে প্রশ্ন সেনাবাহিনী কি এখন এনসিপির পাহারাদার বাহিনী

18

ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগে শিবিরের সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী

19

জাতিসংঘের মিশন চালুর সিদ্ধান্ত থেকে দৃষ্টি সরাতেই উত্তরায় বি

20