নিজস্ব প্রতিবেদক
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অবাধ নির্বাচন ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসা সম্ভব নয়।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি নিউজ–কে পাঠানো এক ইমেইল বার্তায় শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে দেশের কোটি কোটি ভোটার কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের বর্জনমূলক নির্বাচন জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়াবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি বলেন, “যখন জনগণের একটি বড় অংশকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখা হয়, তখন তা ভবিষ্যৎ অস্থিরতার ভিত্তি তৈরি করে। বর্জনমূলক প্রক্রিয়ায় গঠিত কোনো সরকার বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করেছে, তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। যদিও সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সংখ্যালঘু নির্যাতন, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং দেশে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও নির্বাচন বর্জনের এই চক্র থেকে বেরিয়ে না এলে দেশের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে। তাঁর মতে, “বাংলাদেশের প্রয়োজন একটি বৈধ সরকার, যারা জনগণের প্রকৃত সম্মতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তবেই দেশ তার ক্ষত সারিয়ে সামনে এগোতে পারবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য এক কঠিন পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন