নিজস্ব প্রতিবেদক
ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি পোস্ট দেশজুড়ে বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
পোস্টটিতে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়—নারীদের নেতৃত্ব “নীতিগতভাবে অসম্ভব” এবং “আল্লাহ এটার অনুমতি দেননি।” পাশাপাশি আধুনিকতার নামে নারীদের ঘর থেকে বাইরে আনাকে “শোষণ,” “নৈতিক অবক্ষয়,” এবং “নিরাপত্তাহীনতার উৎস” হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আরও আপত্তিকরভাবে, কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের উপস্থিতিকে “নৈতিক পতন” হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই নারী অধিকারকর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ মানুষ একে ঘৃণ্য, নারীবিদ্বেষী ও মধ্যযুগীয় মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে সমালোচনা করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতই ক্ষোভের স্রোত নামে, এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার মুখে বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলা হয়।
পরবর্তীতে ডা. শফিকুর রহমানের অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটি পোস্ট আসে যেখানে দাবি করা হয়—তার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হয়েছিল এবং ওই মন্তব্য তার বা তার অনুমোদিত টিমের কেউ লেখেননি। বিষয়টি তার “অ্যাডমিন প্যানেল” থেকে জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে এই ব্যাখ্যায়ও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একটি শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে এত সংবেদনশীল মন্তব্য প্রকাশ পাওয়ার পর “হ্যাকড” বলেই দায় এড়ানোর চেষ্টা কতটা গ্রহণযোগ্য—এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সাইবার নিরাপত্তা, অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় ফিরিয়েছে বাংলাদেশে নারী অধিকার, ধর্মীয় রাজনীতি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নেতাদের দায়বদ্ধতা বিষয়ক দীর্ঘদিনের চর্চাকে। বিশেষ করে যখন সমাজে নারী নিরাপত্তা, অংশগ্রহণ ও সম্মান নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন