Insight Desk
প্রকাশ : Feb 3, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইউনুস সরকারের অস্ত্র চুক্তি বিতর্কে খলিলুরের দায় এড়ানো মন্তব্য

ডেস্ক রিপোর্ট 

অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান আবারও সমালোচনার মুখে। দেশের ভেতর ও বাইরে যখন ইউনুস সরকারের দ্রুতগতির অস্ত্র চুক্তি নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠছে, ঠিক সেই সময় খলিলুর রহমান এসব চুক্তিকে সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন। তার এমন বক্তব্যে সমালোচকরা মনে করছেন, এটি দায়িত্ব এড়ানোর পরিষ্কার চেষ্টা।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, পাকিস্তান, ইউরোপ এবং তুরকি সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বড় আকারের অস্ত্র চুক্তি অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অভিযোগ আছে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার আগ মুহূর্তে এই বিপুল সামরিক ক্রয়ের সিদ্ধান্ত কোনো স্বচ্ছতা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির আর্থিক দায় ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।

ঠিক এমন প্রেক্ষাপটে ২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেছেন, সব কিছুই নাকি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। সমালোচকদের মতে, তিনি কোন প্রক্রিয়ার কথা বলছেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ এই সরকার নির্বাচিত নয় এবং তাদের ম্যান্ডেটও সীমিত সময়ের জন্য।

একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে, যদি পরবর্তী সরকার এই অস্ত্র চুক্তি বাতিল করতে চায় বা পুনর্বিবেচনা করে, তাহলে দায়ভার কার ওপর পড়বে—এ প্রশ্নেরও কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর তিনি দেননিপর্যবেক্ষকদের মতে, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলেও খলিলুর রহমান তা এড়িয়ে গেছেন।

এসব বিতর্কের মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিমানের বোয়িং ক্রয় সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত। অভিযোগ রয়েছে, এই ক্রয় প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে বিমানের বোর্ডে বসানো হয়েছে, যা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। একই সময়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুর রহমানকে একটি গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, বোয়িং চুক্তিকে ঘিরে এই গ্রেপ্তার সন্দেহজনকভাবে সময়ে হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, এই সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন চুক্তি দ্রুত অনুমোদন করে রেখে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রশাসনকে আর্থিক ও কৌশলগত ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। অর্থনীতি, প্রতিরক্ষা ও বিমান খাতে এমন স্ট্র্যাটেজিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায় একটি অস্থায়ী সরকারের নেই।

অর্থনীতিবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই অস্ত্র চুক্তিগুলোকে ঘিরে যে অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে, তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর। ভবিষ্যৎ সরকারকে নতুন করে এসব চুক্তির বৈধতা, আর্থিক দায় এবং কৌশলগত প্রভাব বিবেচনা করে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

খলিলুর রহমানের এড়িয়ে যাওয়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। দেশের মানুষ এখন উত্তরের অপেক্ষায়, কারণ এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও বাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশ ধ্বংস করতে জামায়াত-শিবিরের ছাত্র-জনতার ব্যানার

1

মব উস্কে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের চেষ্টায় ইউনূস গং

2

ইউনূসের ছত্রছায়ায় ছাত্র উপদেষ্টাদের দুর্নীতির মহোৎসব

3

পালানোর আগে ব্যাংক ফাঁকা করার গোপন মিশনে ইউনূস

4

পিনাকির নির্দেশে এনসিপি-জামায়াত-বিএনপিকে নিয়ে বৈঠকে বসছেন ইউ

5

এবার বাংলাদেশি সাংবাদিকদেরও T20 বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিল ICC

6

জামায়াত আমিরের দ্বৈত নীতি: শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় ব্যাঘাতের

7

অন্তর্বর্তী সরকার কি ইচ্ছাকৃতভাবেই আইনের শাসনকে পেছনে ঠেলে দ

8

সীতাকুণ্ডে শ্যামাপূজার মণ্ডপে সাংবাদিকের ওপর সাম্প্রদায়িক হা

9

বাংলাদেশে আসা জাহাজসহ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্

10

গণভোটের প্রচারের নামে ছয় মন্ত্রণালয় বাগিয়ে নিচ্ছে ১৪০ কোটি

11

ইউনূস গংয়ের জঙ্গি কার্যক্রমের খেসারত দিচ্ছে প্রবাসীরা

12

বগুড়ায় মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে

13

বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানাতে চায় জামায়াত, বাস্তবায়নে তৎপর গুপ

14

ইউরোপের দরজায় কড়া নাড়ছে ইউনুস সরকার, দ্রুত FTA চায় ঢাকা

15

জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সিদ্ধান্তহীনতায় বিপদে জাতি

16

হারানো ভূখণ্ড ফেরানোর স্বপ্নে পাকিস্তান,বাংলাদেশ কি আবারও ষড়

17

আন্তর্জাতিক যুদ্ধবাজদের নতুন থিয়েটার বাংলাদেশ, ঝুঁকিতে সার্ব

18

অবৈধ ক্ষমতার খেলায় মাতৃভূমি দারিদ্র্যের দেশে পরিণত ইউনুসের ন

19

জঙ্গিবাদীদের আবাধ দৌরাত্ম; রহস্যজনক প্রশাসনের নীরবতা

20