নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্র কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা ক্ষমতার জোরে প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটি গড়ে ওঠে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। সেই বাস্তবতায় জোরপূর্বক নির্বাচন কখনোই গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি হতে পারে না।
ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—যে নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নেই, যেখানে ভোটারদের আস্থা অনুপস্থিত, সেই নির্বাচন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়কেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়। এমন নির্বাচন সাময়িকভাবে ক্ষমতার কাঠামো দাঁড় করালেও, দীর্ঘমেয়াদে তা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ, সংগঠিত ও প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি। এই দলকে বাদ দিয়ে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনকে কীভাবে গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বলা যায়—সে প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই। যেখানে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে অনাগ্রহী বা বাধাগ্রস্ত, যেখানে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুপস্থিত, সেখানে নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে—তা আর গণতন্ত্রের প্রতিফলন হয় না।
গণতন্ত্র মানে শুধু ব্যালট বাক্স নয়। গণতন্ত্র মানে ভিন্নমতের সহাবস্থান, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সকল পক্ষের অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি জনগণের আস্থা। জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নির্বাচন সেই আস্থাকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর যখন জনগণের আস্থা ভেঙে যায়, তখন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ভিত্তিও দুর্বল হয়ে পড়ে।
আজ সময় এসেছে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোর। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া—বিশেষ করে আওয়ামী লীগের মতো প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকে বাদ দিয়ে—কোনো নির্বাচনই টেকসই হতে পারে না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে আগে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করাই হবে মূল শর্ত।
মন্তব্য করুন